ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮.৬% বাংলাদেশির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • / 81

স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই বাংলাদেশের প্রায় ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ অর্থের অভাবে পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা নিশ্চিত করতে পারেননি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ইফাদ, ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার অক্ষমতার হার পাকিস্তানের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানে এ হার ৬৩ শতাংশ, আর বাংলাদেশে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন একজন মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তির খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। এতে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় খাবার, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বির মতো খাদ্যগোষ্ঠী রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশে একজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবারের দৈনিক গড় খরচ ২০১৭ সালের ৩ দশমিক ০৯ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশ যায় মাছ, মাংস, দুধ, ফলমূল ও শাকসবজি কিনতে।

তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০১৭ সালে দেশে ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারতেন না, যা ২০২৫ সালে কমে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয় কিছুটা বাড়লেও নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাবার এখনো ব্যয়বহুল। বিশেষ করে মাছ, মাংস, দুধ ও ফলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার এসব খাবার নিয়মিত কিনতে পারছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে, কিন্তু দাম কমলে তার সুফল পৌঁছাতে সময় লাগে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার এখনো অনেক ক্ষেত্রে নাগালের বাইরে রয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে পুষ্টিকর খাবারের দাম কমাতে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ কমানো, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং খাদ্যের অপচয় রোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮.৬% বাংলাদেশির

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই বাংলাদেশের প্রায় ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ অর্থের অভাবে পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা নিশ্চিত করতে পারেননি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ইফাদ, ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার অক্ষমতার হার পাকিস্তানের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানে এ হার ৬৩ শতাংশ, আর বাংলাদেশে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন একজন মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তির খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। এতে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় খাবার, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বির মতো খাদ্যগোষ্ঠী রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশে একজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবারের দৈনিক গড় খরচ ২০১৭ সালের ৩ দশমিক ০৯ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশ যায় মাছ, মাংস, দুধ, ফলমূল ও শাকসবজি কিনতে।

তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০১৭ সালে দেশে ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারতেন না, যা ২০২৫ সালে কমে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয় কিছুটা বাড়লেও নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাবার এখনো ব্যয়বহুল। বিশেষ করে মাছ, মাংস, দুধ ও ফলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার এসব খাবার নিয়মিত কিনতে পারছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে, কিন্তু দাম কমলে তার সুফল পৌঁছাতে সময় লাগে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার এখনো অনেক ক্ষেত্রে নাগালের বাইরে রয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে পুষ্টিকর খাবারের দাম কমাতে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ কমানো, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং খাদ্যের অপচয় রোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।