ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা, পালানোর সময় স্বামী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 57

স্ত্রীকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা, পালানোর সময় স্বামী আটক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মুমূর্ষু স্ত্রী শাহিনা বেগমকে (২২) প্রাইভেটকারে করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম। চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষা করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করার পরপরই হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান।

নিহত শাহিনা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তার স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় স্ত্রী শাহিনাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষা করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করলে তিনি দ্রুত প্রাইভেটকার নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

পরে পুলিশ শাহিনার মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। এদিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সিয়াম নিজ এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক শাহিনাকে মৃত ঘোষণার পর সিয়ামের আচরণ উপস্থিত লোকজনের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর তিনি দ্রুত প্রাইভেটকার নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান।

শাহিনার মা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করেছেন সিয়াম। তার দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাহিনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনও শাহিনাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমানও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে সিয়ামের সঙ্গে শাহিনার বিয়ে হয়। তাদের আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সিয়ামের মাদকাসক্তির কারণে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই ঝামেলা হতো এবং শাহিনাকে মারধরের ঘটনায় একাধিকবার সালিশও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করা স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অংশে পুরোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্ত্রীকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা, পালানোর সময় স্বামী আটক

সর্বশেষ আপডেট ০২:০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মুমূর্ষু স্ত্রী শাহিনা বেগমকে (২২) প্রাইভেটকারে করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম। চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষা করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করার পরপরই হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান।

নিহত শাহিনা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তার স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় স্ত্রী শাহিনাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষা করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করলে তিনি দ্রুত প্রাইভেটকার নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

পরে পুলিশ শাহিনার মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। এদিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সিয়াম নিজ এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক শাহিনাকে মৃত ঘোষণার পর সিয়ামের আচরণ উপস্থিত লোকজনের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর তিনি দ্রুত প্রাইভেটকার নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান।

শাহিনার মা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করেছেন সিয়াম। তার দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাহিনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনও শাহিনাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমানও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে সিয়ামের সঙ্গে শাহিনার বিয়ে হয়। তাদের আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সিয়ামের মাদকাসক্তির কারণে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই ঝামেলা হতো এবং শাহিনাকে মারধরের ঘটনায় একাধিকবার সালিশও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করা স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অংশে পুরোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।