সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 69
সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় বনদস্যু কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকি জমা দেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের বেজ মোংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আত্মসমর্পণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানান কোস্ট গার্ড জাহাজ বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন।
তিনি জানান, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে দস্যুরা বর্তমানে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের সময় তারা ১৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র জমা দেন। এর মধ্যে একটি করে এইট শুটার, সিক্স শুটার, ফোর শুটার, সাইড হেমার ও বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল এবং দুটি করে এমথ্রি গ্যাস গান, ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ওয়ান শুটার ও এয়ার গান রয়েছে।
এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তলের গুলি, পাঁচ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা ও ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেন আত্মসমর্পণকারীরা।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)।
তাদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে।
এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এখন পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। এরই মধ্যে কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

































