সীমান্তে পুশইন নিয়ে আসকের উদ্বেগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:২০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 58
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নারী, শিশু ও প্রবীণসহ মানুষকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা এবং শূন্যরেখায় আটকে রাখার ঘটনাকে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে নারী, শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তিসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা এবং দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বাধ্য করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয়তা ও পরিচয় যথাযথ, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে যাচাই না করেই তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আসক বলেছে, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলেও তার সঙ্গে অমানবিক, নিষ্ঠুর বা অবমাননাকর আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার তার জাতীয়তা, ধর্ম, ভাষা বা অভিবাসন-সম্পর্কিত অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল নয়।
সংগঠনটি উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী কাউকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা যায় না, যেখানে তার জীবন, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা মানবিক মর্যাদা ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরিচয় ও আইনি অবস্থান নির্ধারণে রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা অনুসরণ করাই উচিত।
আসকের মতে, শূন্যরেখায় দিনের পর দিন মানুষকে আটকে রাখা উদ্বেগজনক। এতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের মতো মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, যা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ স্বচ্ছ, আইনসম্মত ও পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তথ্য বিনিময়, পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সীমান্তে অবস্থানরত প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং সব ধরনের পুশইন বন্ধের দাবি জানানো হয়।




































