সিরিয়ায় ১০ বছরের উপস্থিতির অবসান
সিরিয়ায় ১০ বছরের উপস্থিতির অবসান: সর্বশেষ ঘাঁটি ছাড়ল মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 32
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটিয়ে সিরিয়া থেকে নিজেদের সর্বশেষ সেনাসদস্যদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসাকাহ অঞ্চলের ‘কাসরাক’ সামরিক ঘাঁটি ছাড়ার মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশকের উপস্থিতির অবসান ঘটল। মূলত ২০১৫ সাল থেকে আইএস বিরোধী লড়াইয়ের লক্ষ্যে সিরিয়ায় অবস্থান করছিল মার্কিন বাহিনী। বর্তমানে এই পদক্ষেপকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ বন্ধের’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়া থেকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি পুরোপুরি গুটিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন সেনারা হাসাকাহ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ত্যাগ করেছে। সিরীয় কর্মকর্তাদের মতে, এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১০ বছরের মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। ফলে এখন থেকে সিরিয়া রাষ্ট্র নিজেই তার ভূখণ্ডের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমানে হাসাকাহ অঞ্চলে সিরীয় সেনাবাহিনীর ৬০তম ডিভিশন প্রবেশ করেছে।
ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হয়েছে। সকল সামরিক সরঞ্জাম জর্ডান সীমান্ত দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসে। বাশার আল-আসাদকে পরাজিত করে নতুন সরকার ক্ষমতায় বসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে নতুন সরকারের অধীনে কুর্দি যোদ্ধারাও কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
এসডিএফ এবং সিরীয় সরকারের মধ্যে চুক্তির ফলে মার্কিন সেনাদের জন্য সিরিয়া ত্যাগ করা সহজ হয়েছে। এর আগে তুরস্কের সাথে এসডিএফ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল। তবে সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনার ফলে ওই অঞ্চলের উত্তপ্ত পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে। বর্তমানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হওয়ার পর ন্যাটোর মিত্র তুরস্কের সাথেও সম্পর্কের উন্নয়ন হতে পারে। মূলত সন্ত্রাসবাদ দমনে এখন স্থানীয় সরকারই প্রধান ভূমিকা রাখবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্যে এখন একাধিক যুদ্ধবিরতি চলছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাঝেই এই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশের মাটি থেকে ব্যয়বহুল যুদ্ধ বন্ধ করতে চায়। ফলে তারা এখন সিরিয়া থেকে সরে এসে কূটনৈতিক আলোচনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।

































