সিনেমা ও বাউল গানের আসর বন্ধে আসকের উদ্বেগ ও নিন্দা
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / 62
প্রকাশিত গনমাধ্যম সুত্রে জানা যাচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামের চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ এবং নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বাউল সংগীতের একটি পূর্বনির্ধারিত সাংস্কৃতিক আয়োজন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানাচ্ছে ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, এ ধরনের ঘটনা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮ ও ৩৯ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং চিন্তা, বিবেক, বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত; একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা এই অধিকারগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি, বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর অংশ, সেই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২৭ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এর অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২১ মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো গোষ্ঠী বা চাপের মুখে এ সকল সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আরও মনে করে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো- সকল নাগরিকের সাংস্কৃতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নিশ্চিত করা যে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শগত চাপ আইনের শাসনকে পাশ কাটিয়ে জনপরিসরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) স্পষ্টভাবে বলছে, সাংস্কৃতিক আয়োজন বা শিল্পচর্চার বিষয়ে ভিন্নমত বা সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি, প্রচারণা বা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কোনো আইন ও অধিকার সম্মত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত বা একটি আয়োজনের ক্ষতি করে না; বরং তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে দেয়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছে – তারা যেন প্রতিটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।



































