ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক রূপা-বাবুর আইনি অধিকার চায় আসক

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 85

আসক

সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগতভাবে পরিচালনার পাশাপাশি তাঁদের আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় মানবাধিকার সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আসক জানায়, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

শাপলা চত্বরের ঘটনায় প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করে আসক। তবে একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকারও সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

আসকের মতে, গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা ও দায় নির্ধারণ করতে হলে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে তা করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার সংবাদ প্রকাশ বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং কোনো অপরাধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ বা সহায়তা করা এক বিষয় নয়। তাই দুটি বিষয়কে পৃথকভাবে বিবেচনা করা উচিত।

ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচও উদ্বেগ জানিয়েছে। গত ১৫ জুলাই দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো সাংবাদিকদের পেশাগত ও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

আসক আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি। অভিযোগ গুরুতর হলেও তা কোনোভাবেই অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার খর্ব করতে পারে না।

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে আসক।

সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁদের সব ধরনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে আসক।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাংবাদিক রূপা-বাবুর আইনি অধিকার চায় আসক

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগতভাবে পরিচালনার পাশাপাশি তাঁদের আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় মানবাধিকার সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আসক জানায়, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

শাপলা চত্বরের ঘটনায় প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করে আসক। তবে একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকারও সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

আসকের মতে, গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা ও দায় নির্ধারণ করতে হলে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে তা করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার সংবাদ প্রকাশ বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং কোনো অপরাধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ বা সহায়তা করা এক বিষয় নয়। তাই দুটি বিষয়কে পৃথকভাবে বিবেচনা করা উচিত।

ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচও উদ্বেগ জানিয়েছে। গত ১৫ জুলাই দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো সাংবাদিকদের পেশাগত ও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

আসক আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি। অভিযোগ গুরুতর হলেও তা কোনোভাবেই অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার খর্ব করতে পারে না।

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে আসক।

সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁদের সব ধরনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে আসক।