ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস ২০২৬

সাঁতার জানাই যথেষ্ট নয়: পানিতে ডোবা মানুষ উদ্ধারে চাই নিরাপদ কৌশল

মো. আবুল বরকাত
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • / 452

একজন শিশু পানিতে ডুবে যাচ্ছে। পাশে থাকা আরেকজন শিশু এক মুহূর্তও না ভেবে তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার মনে ছিল বন্ধুকে বাঁচানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা, ছিল সাহস ও মানবিকতা।

কিন্তু পানির স্রোত, আতঙ্কিত মানুষের আচরণ এবং উদ্ধার কৌশল না জানার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা পরিণত হলো আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনায়।

সম্প্রতি এমন কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, একজনকে বাঁচাতে গিয়ে একসঙ্গে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কোথাও ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ভাই-বোনের জীবন গেছে, কোথাও বন্ধুকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েকজন শিশু আর ফিরে আসেনি।

এই ঘটনাগুলো প্রমান করে শিশুদের সাহস আছে, ভালোবাসা আছে পাশে দাঁড়ানোর। তবে, সেই সাহসের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা।

 

২৫ জুলাই বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “Unite to Turn the Tide”, অর্থাৎ সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুস্রোত বদলে দিই। এই বার্তা শুধু একটি দিবসের আহ্বান নয়। এটি আমাদের পানির সঙ্গে বসবাসের সংস্কৃতিকে আরও নিরাপদ করার আহ্বান। বাংলাদেশ নদী, খাল, বিল ও পুকুরের দেশ। পানি আমাদের জীবন, জীবিকা ও প্রকৃতির অংশ। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে সেই পানি নিমিষেই একটি পরিবারের জন্য শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশ হেল্থ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০২৩ অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার ৬৬৫ জন মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। তাঁদের মধ্যে ১৪ হাজার ২৬৯ জনই শিশু, যাদের বয়স ১ থেকে ৪ বছরের মধ্যে। এসব মৃত্যুর বড় অংশ ঘটে বাড়ির আশপাশের পরিচিত জলাশয়ে। সিআইপিআরবি-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের যদি ‘আঁচল’ নামক সুরক্ষিত সমাজভিত্তিক শিশুযত্ন কেন্দ্রে রাখা যায়, তবে তাদের পানিতে ডোবার ঝুঁকি ৮২ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। অন্যদিকে, ৬ থেকে ১০ বছর বয়সের শিশুদের জীবন রক্ষাকারী সাঁতার এবং উদ্ধার কৌশল শেখালে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায় প্রায় ৯৬ শতাংশ।

 

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা নদী-নালার দেশে শিশুরা এমনিতেই সাঁতার শিখে যায়। সময় বদলেছে। অনেক পুকুর ভরাট হয়েছে, অনেক জলাশয় বাণিজ্যিক ব্যবহারে চলে গেছে, কোথাও পানির গুণগত মান বিচারে সাঁতার কাটা নিরাপদ নয়। ফলে পানির পাশে বসবাস করলেও শিশুরা এখন আর স্বাভাবিকভাবে নিরাপদ সাঁতার শেখার সুযোগ পায় না।

জীবন রক্ষাকারী সাঁতার শুধু পানিতে ভেসে থাকা বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার দক্ষতা নয়। নিরাপদ উদ্ধার কৌশল জানা এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। সাঁতার জানলেই পানিতে ডুবে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করা যায় না। পানিতে ডুবতে থাকা একজন মানুষ সাধারণত আতঙ্কিত থাকে। সে উদ্ধারকারীকেই শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায় । সেক্ষেত্রে দুজনের ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এভাবেই একাধিক মানুষ একসাথে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। তাই নিরাপদ উদ্ধার কৌশল জানা জরুরি। এতে একজন মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা আরেকটি মৃত্যুর কারণ না হয়।

অন্যদিকে, চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পানিতে ডুবা ব্যাক্তিকে উদ্ধারের পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেখিয়েছে যে, সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) সহ প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে গ্রামের একজন সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েও দারুণ সফলতা পাওয়া সম্ভব।

সিপিআর হলো একটি জরুরি জীবন রক্ষাকারী পদ্ধতি। কোনো ব্যক্তি পানিতে ডুবলে, হার্ট অ্যাটাক করলে বা অন্য কোনো কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে তার বুকে নির্দিষ্ট নিয়মে চাপ দিয়ে এবং মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিয়ে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন ও রক্ত চলাচল সচল করা হয়। এই ছোট কৌশলটি জানা থাকলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

অনেক সময় পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করার পরও রোগীকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয় না, ভুল চিকিৎসার কারনে। তাই, পানিতে ডোবা মানুষকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্পর্কেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাড়াতে হবে প্রশিক্ষিত জনবল।

বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ‘আইসিবিসি’ (ICBC) প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় শিশুযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা ও জীবন রক্ষাকারী সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততাও লক্ষ করা যায় এ প্রকল্পে।

এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালে ‘পানিতে ডুবা প্রতিরোধ জাতীয় কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা’ অনুমোদন করেছে। এখন প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ। তারও আগে দরকার সব অংশীজনকে নিয়ে এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। সঠিক ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া গেলে সারাদেশে হাজারো শিশুকে এই অনাকাঙ্খিত ও প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।

বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখে— আমরা কি প্রতিরোধযোগ্য এসব শিশুমৃত্যুর খবর সংবাদপত্রে দেখে শোক প্রকাশ করব, নাকি তা প্রতিরোধে কাজ করব? আমাদের শিশুদের সাহস আমাদের মানসিক শক্তি দেয়, সাহস যোগায় পাশে দাঁড়ানোর। আমাদের উচিত সেই সাহসের সঙ্গে জীবন রক্ষাকারী সাঁতার ও নিরাপদ উদ্ধারকৌশল শেখানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস ২০২৬

সাঁতার জানাই যথেষ্ট নয়: পানিতে ডোবা মানুষ উদ্ধারে চাই নিরাপদ কৌশল

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

একজন শিশু পানিতে ডুবে যাচ্ছে। পাশে থাকা আরেকজন শিশু এক মুহূর্তও না ভেবে তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার মনে ছিল বন্ধুকে বাঁচানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা, ছিল সাহস ও মানবিকতা।

কিন্তু পানির স্রোত, আতঙ্কিত মানুষের আচরণ এবং উদ্ধার কৌশল না জানার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা পরিণত হলো আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনায়।

সম্প্রতি এমন কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, একজনকে বাঁচাতে গিয়ে একসঙ্গে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কোথাও ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ভাই-বোনের জীবন গেছে, কোথাও বন্ধুকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েকজন শিশু আর ফিরে আসেনি।

এই ঘটনাগুলো প্রমান করে শিশুদের সাহস আছে, ভালোবাসা আছে পাশে দাঁড়ানোর। তবে, সেই সাহসের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা।

 

২৫ জুলাই বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “Unite to Turn the Tide”, অর্থাৎ সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুস্রোত বদলে দিই। এই বার্তা শুধু একটি দিবসের আহ্বান নয়। এটি আমাদের পানির সঙ্গে বসবাসের সংস্কৃতিকে আরও নিরাপদ করার আহ্বান। বাংলাদেশ নদী, খাল, বিল ও পুকুরের দেশ। পানি আমাদের জীবন, জীবিকা ও প্রকৃতির অংশ। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে সেই পানি নিমিষেই একটি পরিবারের জন্য শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশ হেল্থ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০২৩ অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার ৬৬৫ জন মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। তাঁদের মধ্যে ১৪ হাজার ২৬৯ জনই শিশু, যাদের বয়স ১ থেকে ৪ বছরের মধ্যে। এসব মৃত্যুর বড় অংশ ঘটে বাড়ির আশপাশের পরিচিত জলাশয়ে। সিআইপিআরবি-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের যদি ‘আঁচল’ নামক সুরক্ষিত সমাজভিত্তিক শিশুযত্ন কেন্দ্রে রাখা যায়, তবে তাদের পানিতে ডোবার ঝুঁকি ৮২ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। অন্যদিকে, ৬ থেকে ১০ বছর বয়সের শিশুদের জীবন রক্ষাকারী সাঁতার এবং উদ্ধার কৌশল শেখালে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায় প্রায় ৯৬ শতাংশ।

 

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা নদী-নালার দেশে শিশুরা এমনিতেই সাঁতার শিখে যায়। সময় বদলেছে। অনেক পুকুর ভরাট হয়েছে, অনেক জলাশয় বাণিজ্যিক ব্যবহারে চলে গেছে, কোথাও পানির গুণগত মান বিচারে সাঁতার কাটা নিরাপদ নয়। ফলে পানির পাশে বসবাস করলেও শিশুরা এখন আর স্বাভাবিকভাবে নিরাপদ সাঁতার শেখার সুযোগ পায় না।

জীবন রক্ষাকারী সাঁতার শুধু পানিতে ভেসে থাকা বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার দক্ষতা নয়। নিরাপদ উদ্ধার কৌশল জানা এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। সাঁতার জানলেই পানিতে ডুবে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করা যায় না। পানিতে ডুবতে থাকা একজন মানুষ সাধারণত আতঙ্কিত থাকে। সে উদ্ধারকারীকেই শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায় । সেক্ষেত্রে দুজনের ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এভাবেই একাধিক মানুষ একসাথে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। তাই নিরাপদ উদ্ধার কৌশল জানা জরুরি। এতে একজন মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা আরেকটি মৃত্যুর কারণ না হয়।

অন্যদিকে, চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পানিতে ডুবা ব্যাক্তিকে উদ্ধারের পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেখিয়েছে যে, সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) সহ প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে গ্রামের একজন সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েও দারুণ সফলতা পাওয়া সম্ভব।

সিপিআর হলো একটি জরুরি জীবন রক্ষাকারী পদ্ধতি। কোনো ব্যক্তি পানিতে ডুবলে, হার্ট অ্যাটাক করলে বা অন্য কোনো কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে তার বুকে নির্দিষ্ট নিয়মে চাপ দিয়ে এবং মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিয়ে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন ও রক্ত চলাচল সচল করা হয়। এই ছোট কৌশলটি জানা থাকলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

অনেক সময় পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করার পরও রোগীকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয় না, ভুল চিকিৎসার কারনে। তাই, পানিতে ডোবা মানুষকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্পর্কেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাড়াতে হবে প্রশিক্ষিত জনবল।

বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ‘আইসিবিসি’ (ICBC) প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় শিশুযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা ও জীবন রক্ষাকারী সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততাও লক্ষ করা যায় এ প্রকল্পে।

এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালে ‘পানিতে ডুবা প্রতিরোধ জাতীয় কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা’ অনুমোদন করেছে। এখন প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ। তারও আগে দরকার সব অংশীজনকে নিয়ে এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। সঠিক ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া গেলে সারাদেশে হাজারো শিশুকে এই অনাকাঙ্খিত ও প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।

বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখে— আমরা কি প্রতিরোধযোগ্য এসব শিশুমৃত্যুর খবর সংবাদপত্রে দেখে শোক প্রকাশ করব, নাকি তা প্রতিরোধে কাজ করব? আমাদের শিশুদের সাহস আমাদের মানসিক শক্তি দেয়, সাহস যোগায় পাশে দাঁড়ানোর। আমাদের উচিত সেই সাহসের সঙ্গে জীবন রক্ষাকারী সাঁতার ও নিরাপদ উদ্ধারকৌশল শেখানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।