সয়াবিন তেলের সরবরাহে টান, বাড়ছে দাম
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 231
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ আবারও কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে নতুন করে বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, পলাশী বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো আগের তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে। ফলে ডিলার ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও তারা প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল পাচ্ছেন। ডিলারদের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের অন্তত ছয়টি দোকানে মাত্র চার-পাঁচটি করে সয়াবিন তেলের বোতল দেখা গেছে। কোনো দোকানে এক লিটারের বোতল নেই, আবার কোনো দোকানে দুই লিটারের বোতলও পাওয়া যাচ্ছে না।
বিক্রেতারা জানান, বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। সরবরাহ করা তেলের একটি অংশ অনেক বিক্রেতা প্রকাশ্যে না রেখে সংরক্ষণ করছেন।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমান আলী বলেন, তাঁর প্রতিদিন প্রায় ১০ কার্টন সয়াবিন তেল প্রয়োজন হলেও ডিলারের কাছ থেকে পেয়েছেন মাত্র চার কার্টন। নিয়মিত ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে কিছু তেল আলাদা করে রাখতে হচ্ছে।
সাধারণত বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ কমে গেলে খোলা তেলের চাহিদা বাড়ে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা হয়েছে। একই সময়ে খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়।
এদিকে চলতি বছর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিল। ফেব্রুয়ারির দিকে প্রথম সংকট শুরু হয়। পরে এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়। জুলাইয়ে আবার সরবরাহে সংকট দেখা দেয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর লিটারে আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২০৪ টাকা।
এবারও তেলের দাম বাড়ানোর দাবি তুলেছে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। এ নিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
তবে বুধবার সিলেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। যাচাই শেষ হওয়ার আগে দাম বাড়ানো হবে না।
এদিকে তেলের বাজারের অস্থিরতার মধ্যে গত এক সপ্তাহে ডিমের দামও বেড়েছে। প্রতি ডজনে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম এখন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকা। নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ এক বা দুটি করে ডিম কেনায় প্রতিটির দাম পড়ছে প্রায় ১৫ টাকা।
অন্যদিকে প্রায় দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের মাছও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিম, মুরগি ও মাছের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার নিরাপত্তারক্ষী আনসার হোসেন বলেন, তাঁর সীমিত আয়ে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমই তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য খাবার। কিন্তু দুই-তিন মাসেও ব্রয়লার মুরগির দাম কমেনি। এখন ডিমের দামও ডজনে ১৬০ টাকা হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।





























