সমাজের মূলধারায় অন্তভুর্ক্তিকরণে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
- / 95
হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অধিকার সুরক্ষা, সমাজের মূলধারায় অন্তভুর্ক্তিকরণে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানী কাকরাইলের একটি হোটেলে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (বন্ধু)র আয়োজনে ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ‘ কর্মে অন্তর্ভুক্তি: হিজড়া ও প্রান্তিক যুবকদের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও মর্যাদার উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রোগাম ম্যানেজার একেএম মাহবুবুল ইসলাম তানভীর। ` জীবিকা উদ্যোগ- বন্ধুর সাথে একটি যাত্রা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা কাজী সাফকাত শরীফ।
আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কোয়ালিটি এন্ড ইনোভেশনের হেড অব প্রোগাম মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম, জেন্ডার এন্ড প্রোটেকশনের এডভাইজার সানজিদা আহমেদ, সাংবাদিক আতিকা, বায়েজীদ, পলাশ, মামুন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর শোভা চৌধুরী, নুসরাত জাহান মীম, টয়া, অরভী, সান্ত্বনা আক্তার জেনিফা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন এডভোকেসি ও কমিউনিকেশন্স ম্যানেজার মোঃ মশিউর রহমান।
একেএম মাহবুবুল ইসলাম তানভীর বলেন, সমাজ হিজড়া কমিউনিটি সম্পর্কে বিভ্রান্ত ছড়ায়। যা তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি করে। কয়েকটি সংগঠন তাদের উন্নয়নে কাজ করছে। গণমাধ্যম তাদের সফলতার কথা প্রচার করে সমাজ, রাষ্ট্রে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কাজী সাফকাত শরীফ তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর ক্যারিয়ারের উন্নয়নে, চাকরি প্রার্থীদের বায়োডাটা তৈরি, ব্যবসা, উদ্যোক্তা, বিদেশে যাওয়া ইত্যাদি পরামর্শগুলো দেওয়া হয়। সেসঙ্গে সরকারি কার্যক্রমে তাদের আওয়াজ তুলে ধরা, আইনি সহায়তা, জলবায়ু সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করছে বন্ধু।
সানজিদা আহমেদ এর মতে, সংবিধানে সব মানুষেরই মৌলিক অধিকার রয়েছে। খাদ্য, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা একজন মানুষের প্রয়োজন। তেমনি মানুষ তাকে সম্মান করবে এটাও তার অধিকার। হিজড়া জনগোষ্ঠী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে তৈরি হয়েছেন। কিন্তু যেই প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়োগ দিবে তারা, সেই প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীরা আচরণগতভাবে তৈরি কিনা সেটাও দেখার বিষয় রয়েছে। দু’পক্ষকেই তৈরি হতে হবে জানালেন তিনি।
মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সামাজিক চিন্তাভাবনা পরিবর্তনে আমরা কাজ করছি। হিজড়া জনগোষ্ঠীর খাদ্য, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার পাশাপাশি মানবিক অধিকার একটি বড় অধিকার। এখানে আইনী নীতিমালা থাকা দরকার। আইনী নীতিমালা যারা বাস্তবায়ন করবে তাদেরকেও অনুকরণ, অনুসরণ করে এগুতে হবে। সেসঙ্গে তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতাও সমাজে বাড়াতে হবে।
মোঃ মশিউর রহমান বলেন,হিজড়া জনগোষ্ঠীকে কিভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে চলচ্চিত্র, নাটকে। ইতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করলে তা শিশুদের মেনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এজন্য হিজড়া জনগোষ্ঠীর ইতিবাচক দিকগুলো চলচ্চিত্র, নাটক, গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।





































