ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চূড়ান্ত পর্যায়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনা

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে যুক্তরাষ্ট্রের নজর

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / 94

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে যুক্তরাষ্ট্রের নজর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিকিউরিপোর্ট। চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকায় এসে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই সিকিউরিপোর্ট তৃতীয় টার্মিনালের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। সে সময় তারা একটি ধারণাপত্রও উপস্থাপন করে। তবে এখন পর্যন্ত টার্মিনাল পরিচালনার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার চূড়ান্ত চুক্তি করেনি। এদিকে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা। তবে সিকিউরিপোর্টের আগ্রহের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন বলে জানান।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিকিউরিপোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ডরিক সিকিউরা এ সপ্তাহেই বাংলাদেশ সফরে আসবেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিমানবন্দর ও সীমান্ত নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি, সফটওয়্যার এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা সেবা দিয়ে থাকে।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক সিকিউরিপোর্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা প্রযুক্তি সরবরাহ করে। তাদের দাবি, স্মার্ট সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা কাজ করে।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহ মূলত তৃতীয় টার্মিনালের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে।

প্রায় ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ আগের সরকার আমলেই শেষ হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে অর্থায়নের বড় অংশ দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা), যারা সহজ শর্তে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ এসেছে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

প্রকল্পে জাইকার অর্থায়ন থাকায় শুরু থেকেই পরিচালনার দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার আলোচনা চলছিল। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ করপোরেশন এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। মার্চ ও এপ্রিলে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই জাপানি কনসোর্টিয়াম তাদের দরপত্র জমা দেবে। এরপরই পরিচালনা-সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমানসেবা প্রতিষ্ঠান ডানাটাও তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ডানাটার আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো, ক্যাটারিং ও ভ্রমণসেবা পরিচালনায় অভিজ্ঞ ডানাটা ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এর আগে একই ধরনের আগ্রহ দেখিয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিচালনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় প্রায় দেড় বছর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। পরে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেয়। যদিও টার্মিনাল এখনও চালু হয়নি, তবু জাইকার ঋণের কিস্তি বাংলাদেশ গত জুন মাস থেকে পরিশোধ শুরু করেছে, যা ২০৫৬ সাল পর্যন্ত চলবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চূড়ান্ত পর্যায়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনা

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে যুক্তরাষ্ট্রের নজর

সর্বশেষ আপডেট ১১:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিকিউরিপোর্ট। চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকায় এসে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই সিকিউরিপোর্ট তৃতীয় টার্মিনালের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। সে সময় তারা একটি ধারণাপত্রও উপস্থাপন করে। তবে এখন পর্যন্ত টার্মিনাল পরিচালনার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার চূড়ান্ত চুক্তি করেনি। এদিকে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা। তবে সিকিউরিপোর্টের আগ্রহের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন বলে জানান।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিকিউরিপোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ডরিক সিকিউরা এ সপ্তাহেই বাংলাদেশ সফরে আসবেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিমানবন্দর ও সীমান্ত নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি, সফটওয়্যার এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা সেবা দিয়ে থাকে।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক সিকিউরিপোর্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা প্রযুক্তি সরবরাহ করে। তাদের দাবি, স্মার্ট সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা কাজ করে।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহ মূলত তৃতীয় টার্মিনালের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে।

প্রায় ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ আগের সরকার আমলেই শেষ হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে অর্থায়নের বড় অংশ দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা), যারা সহজ শর্তে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ এসেছে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

প্রকল্পে জাইকার অর্থায়ন থাকায় শুরু থেকেই পরিচালনার দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার আলোচনা চলছিল। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ করপোরেশন এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। মার্চ ও এপ্রিলে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই জাপানি কনসোর্টিয়াম তাদের দরপত্র জমা দেবে। এরপরই পরিচালনা-সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমানসেবা প্রতিষ্ঠান ডানাটাও তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ডানাটার আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো, ক্যাটারিং ও ভ্রমণসেবা পরিচালনায় অভিজ্ঞ ডানাটা ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এর আগে একই ধরনের আগ্রহ দেখিয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিচালনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় প্রায় দেড় বছর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। পরে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেয়। যদিও টার্মিনাল এখনও চালু হয়নি, তবু জাইকার ঋণের কিস্তি বাংলাদেশ গত জুন মাস থেকে পরিশোধ শুরু করেছে, যা ২০৫৬ সাল পর্যন্ত চলবে।