শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক উত্থানে যাদু মিয়া: তথ্যমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / 52
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামরিক কর্মকর্তা থেকে জননন্দিত রাজনৈতিক নেতায় পরিণত করার পেছনে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠাতেও তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
জাতীয় প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। জননেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক ধারাই দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়েছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর কৃষক প্রজা পার্টির কার্যকারিতা কমে যায়, স্বাধীনতার পর মুসলিম লীগের রাজনীতিও গুরুত্ব হারায়। সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ধারার প্রয়োজন দেখা দেয়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামের ভূমিকার কারণে দলটি দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। অন্যদিকে জাসদসহ বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক ধারাও তখন কার্যকর নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে সমসাময়িক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভবিষ্যতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি নির্মাণে মশিউর রহমান যাদু মিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যাদু মিয়াকে বাদ দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। একজন সেনা কর্মকর্তাকে ধাপে ধাপে জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা, তার রাজনৈতিক চিন্তা ও দর্শন বিকাশে সহায়তা করা এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পেছনে যাদু মিয়ার প্রজ্ঞা ও কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি আরও বলেন, যাদু মিয়ার দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশ ঘটে। তার উদ্যোগেই জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা হয়, যা পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতের রাজনীতিতেও যাদু মিয়ার রাজনৈতিক দর্শন প্রাসঙ্গিক থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ক্যাপ্টেন এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ দিদার বখত, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান, মোস্তফা কামাল মজুমদার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিটা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব বক্তব্য দেন। বক্তারা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।






























