শতবর্ষের ইতিহাসে অস্কারের বড় নীতিগত পরিবর্তন
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 44
হলিউডের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার- অস্কার। প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলচ্চিত্র জগতের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করে আসা এই মঞ্চ এবার বদলে ফেলছে নিজের নিয়মই। এমন পরিবর্তন, যা শুধু অস্কারের ইতিহাসেই নয়; পুরো বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।
দ্য অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস ৯৯তম অস্কার সামনে রেখে ঘোষণা করেছে বড় ধরনের রুলস চেঞ্জ। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।
প্রযুক্তির বিস্ফোরণের যুগে যখন সিনেমায় এআই ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, তখন অ্যাকাডেমি স্পষ্ট জানিয়ে দিলো- এআই দিয়ে তৈরি অভিনয় অস্কারের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে কোনও চরিত্র যদি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হয়, তবে সেটি অভিনয় বিভাগে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। শুধু মানব শিল্পীর বাস্তব অভিনয়ই স্বীকৃতি পাবে।
এখানে একটি বড় বার্তা রয়েছে- অস্কার এখনো মানব সৃজনশীলতাকেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে চায়। কারণ প্রশ্ন উঠছে- প্রযুক্তি কি শিল্পকে প্রতিস্থাপন করবে? নাকি শিল্প থাকবে মানুষের হাতেই?
অ্যাকাডেমি আপাতত দ্বিতীয় পথই বেছে নিয়েছে। তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য বা প্রমাণও চাইতে পারবে তারা। অর্থাৎ, প্রযুক্তির ওপর নজরদারিও বাড়ছে। কিন্তু পরিবর্তন এখানেই শেষ নয়। অভিনয় বিভাগেও এসেছে যুগান্তকারী সংশোধন।
আগে কোনও অভিনেতা একই বিভাগে একাধিক অসাধারণ পারফরম্যান্স দিলেও, মনোনয়নের সুযোগ পেতেন কেবল একটি চরিত্রের জন্য। এবার সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী একই ক্যাটাগরিতে একাধিক চরিত্রের জন্য মনোনয়ন পেতে পারেন; যদি সেগুলো শীর্ষ ভোটে জায়গা করে নেয়। এটি অভিনয়শিল্পীদের জন্য বিশাল সুযোগ। একই বছরে একাধিক শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করলে, তারা এখন নিজের সাফল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতেই পারেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় বিপ্লব। আগে প্রতিটি দেশ থেকে কেবল একটি চলচ্চিত্র অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে জমা দেওয়া যেত। ফলে অনেক শক্তিশালী সিনেমা বাদ পড়ে যেত কেবল কোটা সীমাবদ্ধতার কারণে। এখন সেই কাঠামো ভাঙছে।
যদি কোনও চলচ্চিত্র কান, বার্লিন, ভেনিস, সানড্যান্স, টরন্টো বা বুসানের মতো মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে বড় পুরস্কার জেতে, তবে সেটি সরাসরি অস্কারের জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সিনেমার জন্য আরও উন্মুক্ত হচ্ছে অস্কারের দরজা। এটি বিশেষ করে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বিশাল সুযোগ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হলো- এই বিভাগে পুরস্কার শুধু দেশের নয়, পরিচালকের ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবেও গণ্য হবে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের নির্মাতারা এখন আরও সরাসরি বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাবেন। এটি সিনেমাকে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব থেকে সরিয়ে ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার মর্যাদা বাড়াচ্ছে।
কাস্টিং বিভাগেও পরিবর্তন এসেছে। কাস্টিং ডিরেক্টরদের জন্য পুরস্কারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কারণ সঠিক চরিত্রে সঠিক অভিনেতা নির্বাচনই অনেক সময় একটি চলচ্চিত্রের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
এছাড়া চিত্রনাট্য বিভাগে স্পষ্ট বলা হয়েছে- শুধু মানুষের লেখা স্ক্রিপ্টই বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, এআই লিখিত স্ক্রিপ্টও এখানে অযোগ্য। এতে বোঝা যাচ্ছে, অ্যাকাডেমি প্রযুক্তিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে না, কিন্তু শিল্পের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মানুষকেই রাখতে চাইছে।

































