লোডশেডিংয়ে ওলটপালট হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 82
লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। কোথাও মোবাইলের আলোয় অস্ত্রোপচার করার অভিযোগও উঠেছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ছে আইসিইউ, এনআইসিইউ ও লাইফ সাপোর্টে থাকা রোগীরা।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একজন রোগীর স্বজন বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। শিশু ও অসুস্থ রোগীদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কষ্টকর।
অনেক হাসপাতালেই বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর চালু করা হলেও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে দেখা দিচ্ছে জ্বালানি সংকট। কোথাও আবার জেনারেটর থাকলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় তা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কেভিএ ক্ষমতার একটি জেনারেটর চালাতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক জেনারেটর অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
এক ভুক্তভোগী বলেন, জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি হাসপাতালের জেনারেটর রুম চালু হতে দেখেননি। সেখানে জেনারেটর আছে কি না, সেটিও তারা জানেন না।
বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও লাইফ সাপোর্টে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে। এসব ইউনিটের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতালকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। জেনারেটরের ব্যাকআপ না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ মেশিন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না এবং অনেক রোগীকে ফেরত দিতে হতে পারে।
চিকিৎসকরাও বলছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অস্ত্রোপচারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিউরোলজিস্ট ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় পর্যাপ্ত আলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইলের আলোয় অপারেশন করতে হলে অস্ত্রোপচারের জায়গা ঠিকভাবে দেখা না যাওয়ায় রোগীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত বা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, হাসপাতালগুলোর বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার প্যানেল ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে আগাম জানানোর বিষয়ে তাদের বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে বড় পরিসরে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যুৎ সংকট নতুন দুর্ভোগ তৈরি করলেও চলমান লোডশেডিং এখন শুধু রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির কারণ নয়, গুরুতর রোগীদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাই হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের।



































