রেকর্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে দ. কোরিয়া, মৃত্যু ১৬
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 58
রেকর্ড গড়া তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ তাপজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে রাজধানী সিউলে প্রথমবারের মতো জারি করা হয়েছে ‘চরম তাপপ্রবাহ সতর্কতা’। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
রোববার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে দেশের পশ্চিমাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার সিউলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং আগামী কয়েক দিন তা ৩৭ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়া এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, চরম আবহাওয়া এখন নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।
তাপপ্রবাহের প্রভাব কমাতে সিউল কর্তৃপক্ষ একাধিক জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় ৬৩ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দা; বিশেষ করে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। একই সঙ্গে শহরের তাপমাত্রা কমাতে প্রতিদিন ২০০টি পানিবাহী ট্রাক কয়েক দফায় প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়কে পানি ছিটাচ্ছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম জলীয় কুয়াশা (মিস্ট) ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে ড্রোনের মাধ্যমে লাউডস্পিকারে তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে থার্মাল ক্যামেরা।
সোমবার গোরিয়ং শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪১ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সিউলের গুরো জেলাতেও পারদ প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে।
আবহাওয়া কর্মকর্তাদের মতে, কোরীয় উপদ্বীপের ওপর শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়, সরাসরি সূর্যালোক এবং পাহাড় অতিক্রম করে উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে আসা বাতাসের (ফোহেন প্রভাব) সম্মিলিত প্রভাবে এই তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি টাইফুন ‘ডলফিন’-এর গতিপথও আগামী দিনের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। টাইফুনটি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছাকাছি এলে বৃষ্টি ও মেঘের কারণে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, আর দূরে সরে গেলে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।






























