ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 72

ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ বিলম্ব ও নিরাপত্তা যাচাই শেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি মিলেছে। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলে লোডিং শুরু হয়ে বছরের শেষেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের জন্য অবশেষে ছাড়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)। এতে করে চলতি মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগের নির্ধারিত সময়সূচি স্থগিতের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয় সামনে এসেছিল। সেগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানের পরই এখন অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি লোডিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা রয়েছে তার। প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করবেন বলেও জানান তিনি।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, অগ্নিনিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বড় অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার লাইসেন্স না পাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। একাধিকবার সময় পেছানোর কারণে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা ছিল।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে এই লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে রূপপুরকে বিকল্প শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সুখবর

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ বিলম্ব ও নিরাপত্তা যাচাই শেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি মিলেছে। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলে লোডিং শুরু হয়ে বছরের শেষেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের জন্য অবশেষে ছাড়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)। এতে করে চলতি মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগের নির্ধারিত সময়সূচি স্থগিতের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয় সামনে এসেছিল। সেগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানের পরই এখন অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি লোডিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা রয়েছে তার। প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করবেন বলেও জানান তিনি।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, অগ্নিনিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বড় অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার লাইসেন্স না পাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। একাধিকবার সময় পেছানোর কারণে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা ছিল।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে এই লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে রূপপুরকে বিকল্প শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।