রায়পুরায় বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা, ৬৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 257
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নে পূর্ব বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে মোমেন মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কয়েকজন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রায়পুরা থানায় নিহতের ভাই আমিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফরিদ গ্রুপের প্রধান ফরিদ উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি এলাকায় সরকারবাড়ির মোমেন গ্রুপ ও পূর্বপাড়া ফরিদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ফরিদ গ্রুপের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মোমেন গ্রুপের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা মোমেন মিয়ার বাড়িতে ঢুকে তাকে মাটিতে ফেলে প্রথমে শর্টগান দিয়ে পায়ে গুলি করে। পরে ঘাড়ের ওপর মাথার পেছনে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে মোবারক (৬৫), নাজমুল হোসেন (৩০) ও রুহুল আমিন (৩৭) রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নিহত মোমেন মিয়া সদাগরকান্দি গ্রামের মৃত ধন মিয়ার ছেলে।
চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিহতের চাচাতো ভাই মোমেন সরকার অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা ও মহড়া দিচ্ছে। তিনি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কয়েকজনকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
মামলার বাদী আমিন মিয়া বলেন, “আমার বড় ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ হত্যাকারীরা এখনো বাজারে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।” তিনি চরাঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”






























