রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত সালাম তালুকদার
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 309
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিও সৌজন্যবোধের কারণে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার আজকের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জামালপুর সমিতি, ঢাকা আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘সালাম তালুকদার: নেতা ও মানুষ’।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রয়াত সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক উত্তরসূরি, জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির তিনবারের সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। প্রধান আলোচক ছিলেন সমিতির মহাসচিব এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার বেগম খালেদা জিয়ার একজন যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করলে এরশাদ সরকারের নানা প্রলোভনে দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা সরে যান। সে সময় খালেদা জিয়া দলের প্রতি সবচেয়ে যোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। তিনি সেই আস্থার যথাযথ মর্যাদা রেখেছেন।
ডা. রাসকিন আরও বলেন, গভীর দেশপ্রেম, প্রশ্নাতীত সততা, উচ্চশিক্ষা, মননশীলতা এবং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের কারণে সালাম তালুকদার একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে মানুষের কাছে আলাদা মর্যাদা অর্জন করেছিলেন।
নিজের জীবনের কথাও স্মরণ করে তিনি বলেন, চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন বেছে নেওয়া, অর্থের পেছনে না ছুটে ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়া এবং ঢাকা ও দিনাজপুরে অলাভজনক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের পেছনে চাচা সালাম তালুকদারের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রভাব দেখানো মানুষের অভাব নেই। তবে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ এখন খুব কম। ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন এমনই একজন বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকেও তিনি বিনয়ী ছিলেন এবং দলকে সংগঠিত রাখতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, আবদুস সালাম তালুকদার শুধু জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না; তিনি দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের অন্যতম অভিভাবক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তার কাছে বটবৃক্ষের মতো ছিলেন। তার কাছ থেকেই দেশপ্রেম ও রাজনীতির প্রকৃত শিক্ষা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকেও কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকা যায় এবং মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা যায়, সালাম তালুকদার তা নিজের জীবন ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেখিয়ে গেছেন। তার আদর্শ অনুসরণ করেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চান তিনি।
সমিতির সহসভাপতি আফজাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুজিবুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, হাসিনুর রহমান চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হাসানুজ্জাম শিবলী, মেজর (অব.) আব্দুর রব এবং ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির যুগ্মমহাসচিব হুমায়ুন কবীর আকন্দ।






























