ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৭ বছরে ‘শতকোটির সাম্রাজ্য’

রাজউক পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ‘জাদু’ জানেন!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 109

জাদুর বলে ৭ বছরে ‘শতকোটির সাম্রাজ্য’ গড়েছেন রাজউক পরিদর্শক মনিরুজ্জামান। কাটুন: এআই নির্মিত

মাত্র সাত বছরের চাকরি। পদমর্যাদা ১০ম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা। অথচ অভিযোগ উঠেছে, এই স্বল্প সময়েই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন রাজউকের জোন-৬ এর ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান! তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভবন মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে এখন সরব সংশ্লিষ্ট মহল।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী, গাজীপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বাউফলসহ বিভিন্ন এলাকায় তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি ভবন মালিকদের নোটিশকে ‘বাণিজ্যের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরা সেক্টর-১৭ এর রয়েল টাওয়ারে রয়েছে প্রায় ১,৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। একই এলাকায় সেতু হাউজিংয়ের ‘পলিএনথাস’ ভবনে আরও একটি ১,৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্য মিলেছে।

এছাড়া তুরাগের বাদলদি হাইটসে ১,২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার আমতলা টাওয়ারে ১,৬৩০ বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং মহাখালীর ফ্যালকন গার্ডেন টাওয়ারে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা মূল্যের আরও একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর মহাখালীর ‘ফ্যালকন গার্ডেন সিটি’ এই ভবনে রয়েছে মনিরুজ্জামানের একটি ফ্ল্যাট।
রাজধানীর মহাখালীর ‘ফ্যালকন গার্ডেন সিটি’ এই ভবনে রয়েছে মনিরুজ্জামানের একটি ফ্ল্যাট।

এই কর্মকর্তা রাজধানীর বাংলামটরের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র সড়কে অবস্থিত সারিনা আশরাফ নিবাসের নবম তলার ৯/সি নম্বর ফ্ল্যাটে বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন। এটিও তার কেনা।  ফ্ল্যাটটির আয়তন প্রায় ১,২০০ বর্গফুট এবং এতে ব্যয়বহুল ইন্টেরিয়র করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাউপাড়া মৌজায় বন বিভাগের জমিতে প্রায় ২৫০ শতাংশ জমির মালিকানার অভিযোগ উঠেছে, যা চারজন মিলে ক্রয় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সরেজমিনে ওই জমিতে মালিকানা-সংক্রান্ত সাইনবোর্ডও দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় জমি কিনে টিনশেড বাড়ি নির্মাণের তথ্যও পাওয়া গেছে। বাড়িটিতে মোট নয়টি কক্ষ রয়েছে, যার কয়েকটিতে আত্মীয়স্বজন বসবাস করেন এবং বাকি অংশ ভাড়া দেওয়া হয়।

অন্যদিকে বরিশালের বান্দ রোডের চাঁদমারি এলাকায় ১০ শতাংশ জমির ওপর তিন ইউনিটের টিনশেড স্থাপনা রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় বর্তমানে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে সম্পদের মূল্য কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

রাজউক এর ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।
রাজউক এর ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।

এছাড়া বরিশাল শহরের কাশীপুর এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন এবং বাউফলের ছিটকা এলাকায় একটি তিনতলা বাড়ির তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, পৈতৃক ভিটার আশপাশে আরও প্রায় ৯৬০ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কানিজ জাহানের নামে বরিশাল নগরীর আলেকান্দা এলাকায় প্রায় ৮.৭৫ শতাংশ জমি রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই জমিতে ১৩ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের বড় আড়াইনাও মৌজায় নিজের ও স্বজনদের নামে বিপুল পরিমাণ জমির মালিকানা থাকার অভিযোগও উঠেছে।

রাজউকের বিভিন্ন জোনে কর্মরত থাকা অবস্থায় ভবন মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একাধিক ভবন মালিক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, নোটিশ পাওয়ার পর মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য হতেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হতো।

রাজউকের অভ্যন্তরে তাকে নিয়ে কথিত একটি ডাকনামও প্রচলিত ছিল- ‘২সি মনির’। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, এর অর্থ ছিল ২০ লাখ টাকার সমঝোতা।

অভিযোগ রয়েছে, কেউ অর্থ দিতে রাজি না হলে মোবাইল কোর্ট নিয়ে হাজির হওয়া, ভবনের অংশবিশেষ ভাঙার হুমকি দেওয়া কিংবা প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হতো।

২০১৮ সালের ২ জুলাই রাজউকে মনিরুজ্জামানের নিয়োগের সময়ও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। কিছু কর্মকর্তা দাবি করেছেন, লিখিত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ নম্বর পেয়ে তিনি মেধাতালিকার শীর্ষে উঠে আসেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে চাকরি লাভ করেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী কানিজ জাহানকে তলব করে। তাদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়- দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিবরণ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, এরপর তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি কোথায়? কী কারণে তদন্তের ফলাফল জনসম্মুখে আসেনি, তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, “এমকে ডিজাইন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্স লিমিটেড” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের পরিবারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত। একই নামে গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মার্কেট এলাকায় একটি অফিস থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। রাজউকের বিভিন্ন ভবনের নকশা অনুমোদনে এই প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

বাউফলের ছিটকা-রণভৈরব এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধানের সময় স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, মনিরুজ্জামানের একাধিক মাছের ঘের ও বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. মনিরুজ্জামানের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৭ বছরে ‘শতকোটির সাম্রাজ্য’

রাজউক পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ‘জাদু’ জানেন!

সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মাত্র সাত বছরের চাকরি। পদমর্যাদা ১০ম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা। অথচ অভিযোগ উঠেছে, এই স্বল্প সময়েই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন রাজউকের জোন-৬ এর ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান! তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভবন মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে এখন সরব সংশ্লিষ্ট মহল।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী, গাজীপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বাউফলসহ বিভিন্ন এলাকায় তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি ভবন মালিকদের নোটিশকে ‘বাণিজ্যের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরা সেক্টর-১৭ এর রয়েল টাওয়ারে রয়েছে প্রায় ১,৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। একই এলাকায় সেতু হাউজিংয়ের ‘পলিএনথাস’ ভবনে আরও একটি ১,৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্য মিলেছে।

এছাড়া তুরাগের বাদলদি হাইটসে ১,২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার আমতলা টাওয়ারে ১,৬৩০ বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং মহাখালীর ফ্যালকন গার্ডেন টাওয়ারে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা মূল্যের আরও একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর মহাখালীর ‘ফ্যালকন গার্ডেন সিটি’ এই ভবনে রয়েছে মনিরুজ্জামানের একটি ফ্ল্যাট।
রাজধানীর মহাখালীর ‘ফ্যালকন গার্ডেন সিটি’ এই ভবনে রয়েছে মনিরুজ্জামানের একটি ফ্ল্যাট।

এই কর্মকর্তা রাজধানীর বাংলামটরের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র সড়কে অবস্থিত সারিনা আশরাফ নিবাসের নবম তলার ৯/সি নম্বর ফ্ল্যাটে বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন। এটিও তার কেনা।  ফ্ল্যাটটির আয়তন প্রায় ১,২০০ বর্গফুট এবং এতে ব্যয়বহুল ইন্টেরিয়র করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাউপাড়া মৌজায় বন বিভাগের জমিতে প্রায় ২৫০ শতাংশ জমির মালিকানার অভিযোগ উঠেছে, যা চারজন মিলে ক্রয় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সরেজমিনে ওই জমিতে মালিকানা-সংক্রান্ত সাইনবোর্ডও দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় জমি কিনে টিনশেড বাড়ি নির্মাণের তথ্যও পাওয়া গেছে। বাড়িটিতে মোট নয়টি কক্ষ রয়েছে, যার কয়েকটিতে আত্মীয়স্বজন বসবাস করেন এবং বাকি অংশ ভাড়া দেওয়া হয়।

অন্যদিকে বরিশালের বান্দ রোডের চাঁদমারি এলাকায় ১০ শতাংশ জমির ওপর তিন ইউনিটের টিনশেড স্থাপনা রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় বর্তমানে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে সম্পদের মূল্য কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

রাজউক এর ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।
রাজউক এর ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।

এছাড়া বরিশাল শহরের কাশীপুর এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন এবং বাউফলের ছিটকা এলাকায় একটি তিনতলা বাড়ির তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, পৈতৃক ভিটার আশপাশে আরও প্রায় ৯৬০ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কানিজ জাহানের নামে বরিশাল নগরীর আলেকান্দা এলাকায় প্রায় ৮.৭৫ শতাংশ জমি রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই জমিতে ১৩ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের বড় আড়াইনাও মৌজায় নিজের ও স্বজনদের নামে বিপুল পরিমাণ জমির মালিকানা থাকার অভিযোগও উঠেছে।

রাজউকের বিভিন্ন জোনে কর্মরত থাকা অবস্থায় ভবন মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একাধিক ভবন মালিক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, নোটিশ পাওয়ার পর মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য হতেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হতো।

রাজউকের অভ্যন্তরে তাকে নিয়ে কথিত একটি ডাকনামও প্রচলিত ছিল- ‘২সি মনির’। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, এর অর্থ ছিল ২০ লাখ টাকার সমঝোতা।

অভিযোগ রয়েছে, কেউ অর্থ দিতে রাজি না হলে মোবাইল কোর্ট নিয়ে হাজির হওয়া, ভবনের অংশবিশেষ ভাঙার হুমকি দেওয়া কিংবা প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হতো।

২০১৮ সালের ২ জুলাই রাজউকে মনিরুজ্জামানের নিয়োগের সময়ও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। কিছু কর্মকর্তা দাবি করেছেন, লিখিত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ নম্বর পেয়ে তিনি মেধাতালিকার শীর্ষে উঠে আসেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে চাকরি লাভ করেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী কানিজ জাহানকে তলব করে। তাদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়- দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিবরণ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, এরপর তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি কোথায়? কী কারণে তদন্তের ফলাফল জনসম্মুখে আসেনি, তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, “এমকে ডিজাইন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্স লিমিটেড” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের পরিবারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত। একই নামে গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মার্কেট এলাকায় একটি অফিস থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। রাজউকের বিভিন্ন ভবনের নকশা অনুমোদনে এই প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

বাউফলের ছিটকা-রণভৈরব এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধানের সময় স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, মনিরুজ্জামানের একাধিক মাছের ঘের ও বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. মনিরুজ্জামানের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।