ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বিরদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভাঙার অভিযোগ ইরানের

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • / 99

নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বিমান ও নৌ হামলার মাধ্যমে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যা চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, দাবি করে যে রাতভর চালানো হামলায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন স্থাপনে ব্যবহৃত সন্দেহভাজন নৌযান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তেহরানের মতে, এটি সরাসরি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং এর “উপযুক্ত জবাব” দেওয়া হবে, যদিও কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ার কথা জানানো হয়নি।

অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এসব অভিযান আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতেই দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থল ও নৌযানকে লক্ষ্য করা হয়।

এই ঘটনার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় তিন শতাংশ বেড়ে যায়, কারণ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময় ওমান উপকূলে একটি ট্যাংকারে রহস্যজনক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়, যদিও জাহাজ ও ক্রু নিরাপদ আছে বলে জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানের বান্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর ছড়ায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে, যা হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি একটি কৌশলগত অঞ্চল। ইরানি পক্ষ আরও দাবি করে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি F-35 যুদ্ধবিমানে আঘাত করেছে, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে “যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে সম্ভাব্য প্রতিশোধের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ঈদের বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য প্রভাব কমছে বলে মন্তব্য করেন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কাতারে আলোচনা চললেও এখনো একটি সম্ভাব্য চুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে খসড়া চুক্তির ভাষা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে অগ্রগতি ধীর হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

ইরানের আলোচকরা দাবি করছেন, একটি চূড়ান্ত কাঠামো চুক্তির অংশ হিসেবে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ধাপে ধাপে ছাড়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভাঙার অভিযোগ ইরানের

সর্বশেষ আপডেট ১০:০২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বিমান ও নৌ হামলার মাধ্যমে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যা চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, দাবি করে যে রাতভর চালানো হামলায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন স্থাপনে ব্যবহৃত সন্দেহভাজন নৌযান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তেহরানের মতে, এটি সরাসরি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং এর “উপযুক্ত জবাব” দেওয়া হবে, যদিও কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ার কথা জানানো হয়নি।

অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এসব অভিযান আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতেই দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থল ও নৌযানকে লক্ষ্য করা হয়।

এই ঘটনার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় তিন শতাংশ বেড়ে যায়, কারণ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময় ওমান উপকূলে একটি ট্যাংকারে রহস্যজনক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়, যদিও জাহাজ ও ক্রু নিরাপদ আছে বলে জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানের বান্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর ছড়ায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে, যা হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি একটি কৌশলগত অঞ্চল। ইরানি পক্ষ আরও দাবি করে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি F-35 যুদ্ধবিমানে আঘাত করেছে, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে “যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে সম্ভাব্য প্রতিশোধের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ঈদের বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য প্রভাব কমছে বলে মন্তব্য করেন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কাতারে আলোচনা চললেও এখনো একটি সম্ভাব্য চুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে খসড়া চুক্তির ভাষা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে অগ্রগতি ধীর হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

ইরানের আলোচকরা দাবি করছেন, একটি চূড়ান্ত কাঠামো চুক্তির অংশ হিসেবে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ধাপে ধাপে ছাড়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।