মোদির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল দিল্লি
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / 84
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের দমন-পীড়ন, বিরোধী নেতাদের আটক এবং সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত দুই মাস ধরে ক্ষোভে ফুঁসছে ভারতের শিক্ষার্থীরা। সোমবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে বিক্ষোভ মিছিল করলে রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
পার্লামেন্ট স্ট্রিট ও কনট প্লেস এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আন্দোলনের পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে রক্তের দাগ, ভাঙা ব্যারিকেড, ছড়িয়ে থাকা জুতা-স্যান্ডেল, পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়।
১৮ বছর বয়সী আন্দোলনকারী অংশুল দেব বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করছে। দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও মূল্যায়ন জালিয়াতির কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মানসিক চাপে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
মঙ্গলবার আন্দোলন আরও রাজনৈতিক রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গেলে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল কংগ্রেস।
কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছে সরকার। তবে এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, “এই দেশ আপনার বাপের নয়; এটি ১৪০ কোটি মানুষের।” একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, জনগণ স্বৈরাচারী আচরণের জবাব দিতে জানে।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলনের ঘটনায় দাঙ্গা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে অন্তত পাঁচটি এফআইআর করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা ১৫ থেকে ২০টি সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করেছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস বা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। পুলিশের কঠোর দমন-পীড়ন এবং সরকারের অবস্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
মোদির জীবনীকার নিলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীর উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তবে অতীতের মতো এবারও তিনি কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের ক্ষোভ ও বিরোধী দলগুলোর সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।




































