মীরপুর বাংলা স্কুলের ইংলিশ ভার্সন ঘিরে বিতর্ক
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 678
রাজধানীর মীরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের ইংলিশ ভার্সন শাখা ঘিরে উঠেছে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে উঠে এসেছে অনুমোদনহীন শিক্ষা কার্যক্রম, প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, যৌন হয়রানি এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর বিষয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠানটিতে ইংলিশ ভার্সন চালু করা হয় এবং বর্তমানে সেখানে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো- এই শাখাটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বৈধ অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ফলে পুরো কার্যক্রমই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও, সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক এজলুর রব খান শাহীনকে ইংলিশ ভার্সনের সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পেশাগত যোগ্যতার পরিবর্তে তার পারিবারিক পরিচয়ই এই নিয়োগে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, তিনি একজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় প্রতিষ্ঠানে একক আধিপত্য কায়েম করেছেন এবং প্রশাসনের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করছেন।
প্রতিষ্ঠানের একাধিক নারী শিক্ষক সমন্বয়ক এজলুর রব শাহীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন। প্রায় দুই-আড়াই মাস আগে তারা সম্মিলিতভাবে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং অভিযুক্তের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। এতে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই ও খাতা সরবরাহ নিয়েও উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাজার সংলগ্ন ‘ফেসবুক লাইব্রেরি’র সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের বই ও খাতা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছর প্রায় ৫৮ হাজার টাকা এবং চলতি বছরে প্রায় ৬২ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই অনিয়মে সহযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষক আবুল কাশেমের নাম উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ এই দুই শিক্ষকের একটি সিন্ডিকেট বর্তমানে পুরো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীরা কার্যত জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী এবং অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না।
অভিভাবকদের ভাষ্য, যেখানে শিক্ষকদেরই নিরাপত্তা নেই এবং শিক্ষা কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা গভীরভাবে শঙ্কিত।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত জরুরি। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ইংলিশ ভার্সন শাখার বৈধতা যাচাই এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক এজলুর রব খান শাহীন বাংলা অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদককে জানান, ইংলিশ ভার্সন শাখার অনুমোদন আছে কি না- এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারবেন না; এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষই সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।
নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি নির্দিষ্ট একটি লাইব্রেরি থেকে খাতা ও বই কেনার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যদিও একটি লাইব্রেরির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে অন্য যেকোনো স্থান থেকেও বই ও খাতা সংগ্রহ করতে পারে- এ ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রাইমারি শাখার জন্য আলাদা করে কোন অনুমতির প্রয়োজন নেই। বাংলা ভার্সনের জন্য অনুমতি নেয়া আছে, সে অনুযায়ী চলছে। আশপাশের অনান্য স্কুলগুলোও একইভাবে চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোসনবিস নারী সহকর্মীকে হয়রানি বা অসাদাচারনের বিষয় জানান, এ বিষয়ে লিখিত বা মৌখিকভাবে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নিন। আর নির্দিষ্ট লাইব্রেরি থেকে বই-খাতা কিংবা অনান্য শিক্ষা উপকরন কেনার বিনিময়ে উপঢৌকন গ্রহণের বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন।



































