ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় ভিজিট পাস বাতিল, বিপাকে প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, মালয়েশিয়া
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 64

মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল, বিপাকে প্রবাসীরা

মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় (মাইআইএমএমএস) অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০৬টি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস (টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট ভিজিট পাস) বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। একই সঙ্গে এসব পাসধারী বিদেশি কর্মীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতির তথ্যও উঠে এসেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এসপিআরএম) সদর দপ্তরে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দেশটির ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান।

তিনি বলেন, মাইআইএমএমএস সিস্টেমে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যেসব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অবৈধভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, সেগুলোর বিপরীতে সরকারের কোনো রাজস্ব আদায় হয়নি। তাই এসব পাস অবিলম্বে বাতিল করা হবে।

জাকারিয়া শাবান জানান, প্রথম ধাপে অনিয়মের মাধ্যমে ইস্যু হওয়া সব পাস বাতিল করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীদের অবস্থান শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে তাদের অবস্থান এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, যাতে তারা পালিয়ে যেতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, ইমিগ্রেশন বিভাগ দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব ছিল না। অভিযুক্তরা বিভাগের কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের ‘ডংল’ (ইউএসবি ডিভাইস) এবং নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রশাসনিক (অ্যাডমিন) আইডির মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অবৈধভাবে কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদন দেন।

জাকারিয়া শাবান বলেন, যাদের সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা এবং অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার ছিল, তাদের সহযোগিতাতেই এই অপব্যবহার সংঘটিত হয়েছে।

তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি মালয়েশিয়ার সহায়তায় পরিচালিত ফরেনসিক তদন্তে দেখা গেছে, সিস্টেমটি বাইরে থেকে হ্যাক করা হয়নি। বরং অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই পুরো জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে।

এর আগে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম হারিয়ান মেট্রো জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইমিগ্রেশন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিশেষ ধরনের ডংল ব্যবহার করে মাইআইএমএমএস সিস্টেমে প্রবেশ করে অবৈধভাবে কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদন দেয়। সাধারণত এ ধরনের ডংল সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা, নেটওয়ার্ক বাইপাস এবং যোগাযোগ সংকেত অনুকরণের মতো প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হয়।

জাকারিয়া শাবান জানান, গত মে মাসেই ইমিগ্রেশন বিভাগ চক্রটির তৎপরতা শনাক্ত করে। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘অপস ক্র্যাক’ অভিযান পরিচালনা করে চক্রটিকে ভেঙে দেওয়া হয়।

মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার দাতুক সেরি আব্দ হালিম আমান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, তিনজন বিদেশি নাগরিক, ইমিগ্রেশন বিভাগের চার কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি শাখার দুই কর্মকর্তা এবং একজন পুলিশ সদস্য।

তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী সন্দেহভাজনদের বৃহস্পতিবার বিকেল ২টা থেকে ৫টার মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দপ্তর এবং পেনাং ইমিগ্রেশন অফিস থেকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০১১ সালের কর্মী কোটার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের লেভি পরিশোধ ছাড়াই ১ হাজার ৩০৬টি ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস ইস্যু করেছে। এর ফলে মালয়েশিয়া সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মালয়েশিয়ায় ভিজিট পাস বাতিল, বিপাকে প্রবাসীরা

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় (মাইআইএমএমএস) অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০৬টি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস (টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট ভিজিট পাস) বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। একই সঙ্গে এসব পাসধারী বিদেশি কর্মীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতির তথ্যও উঠে এসেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এসপিআরএম) সদর দপ্তরে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দেশটির ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান।

তিনি বলেন, মাইআইএমএমএস সিস্টেমে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যেসব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অবৈধভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, সেগুলোর বিপরীতে সরকারের কোনো রাজস্ব আদায় হয়নি। তাই এসব পাস অবিলম্বে বাতিল করা হবে।

জাকারিয়া শাবান জানান, প্রথম ধাপে অনিয়মের মাধ্যমে ইস্যু হওয়া সব পাস বাতিল করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীদের অবস্থান শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে তাদের অবস্থান এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, যাতে তারা পালিয়ে যেতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, ইমিগ্রেশন বিভাগ দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব ছিল না। অভিযুক্তরা বিভাগের কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের ‘ডংল’ (ইউএসবি ডিভাইস) এবং নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রশাসনিক (অ্যাডমিন) আইডির মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অবৈধভাবে কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদন দেন।

জাকারিয়া শাবান বলেন, যাদের সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা এবং অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার ছিল, তাদের সহযোগিতাতেই এই অপব্যবহার সংঘটিত হয়েছে।

তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি মালয়েশিয়ার সহায়তায় পরিচালিত ফরেনসিক তদন্তে দেখা গেছে, সিস্টেমটি বাইরে থেকে হ্যাক করা হয়নি। বরং অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই পুরো জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে।

এর আগে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম হারিয়ান মেট্রো জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইমিগ্রেশন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিশেষ ধরনের ডংল ব্যবহার করে মাইআইএমএমএস সিস্টেমে প্রবেশ করে অবৈধভাবে কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদন দেয়। সাধারণত এ ধরনের ডংল সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা, নেটওয়ার্ক বাইপাস এবং যোগাযোগ সংকেত অনুকরণের মতো প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হয়।

জাকারিয়া শাবান জানান, গত মে মাসেই ইমিগ্রেশন বিভাগ চক্রটির তৎপরতা শনাক্ত করে। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘অপস ক্র্যাক’ অভিযান পরিচালনা করে চক্রটিকে ভেঙে দেওয়া হয়।

মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার দাতুক সেরি আব্দ হালিম আমান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, তিনজন বিদেশি নাগরিক, ইমিগ্রেশন বিভাগের চার কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি শাখার দুই কর্মকর্তা এবং একজন পুলিশ সদস্য।

তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী সন্দেহভাজনদের বৃহস্পতিবার বিকেল ২টা থেকে ৫টার মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দপ্তর এবং পেনাং ইমিগ্রেশন অফিস থেকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০১১ সালের কর্মী কোটার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের লেভি পরিশোধ ছাড়াই ১ হাজার ৩০৬টি ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস ইস্যু করেছে। এর ফলে মালয়েশিয়া সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।