ভোটার নিবন্ধনে নতুন ব্যবস্থা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / 48
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায় থেকেই জন্মতারিখ সংশোধন করা যাবে।
পাশাপাশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে একটি ধাপ বাদ দিয়ে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া অনলাইনে ভোটার এলাকা পরিবর্তন, এনআইডি নবায়নের সময় পারিবারিক তথ্য সংযুক্ত করা এবং কয়েকটি সেবায় নির্ধারিত ফি চালুরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ১২তম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আখতার আহমেদ বলেন, বর্তমানে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের (মাইগ্রেশন) আবেদন নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় করতে হয়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এই সেবা পুরোপুরি অনলাইনে আনা হবে।
আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন এবং এ সেবার জন্য নির্ধারিত সংশোধনী ফি পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধনেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এনআইডি নবায়ন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর এনআইডি নবায়নের জন্য একটি নির্ধারিত ফরম থাকবে। সেখানে আবেদনকারীকে নিজের পারিবারিক তথ্য বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ উল্লেখ করতে হবে। এতে একই পরিবারের সদস্যদের তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণ সহজ হবে। এ সেবার ক্ষেত্রেও ন্যূনতম একটি ফি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
সিনিয়র সচিব বলেন, বর্তমানে জন্মতারিখ সংশোধনের বেশিরভাগ আবেদন কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের স্বীকৃত পাবলিক পরীক্ষার সনদে উল্লেখিত জন্মতারিখের সঙ্গে মিল থাকলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এতে আবেদনকারীদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রয়োজন হবে না।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীরা ফরম জমা ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর তথ্য তদন্তের জন্য আলাদা ধাপ অতিক্রম করতে হয়। তদন্ত শেষে তথ্য আপলোড করে অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর তা সরাসরি সিস্টেমে আপলোড করা হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্তের যথার্থতা যাচাই করে সরাসরি নিবন্ধনের অনুমোদন দেবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া থেকে একটি ধাপ বাদ পড়বে এবং প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন আগের তুলনায় দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।






























