ভুয়া চিকিৎসকের রিপোর্টে কয়রায় সাংবাদিক ফোরামে হামলা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 233
খুলনার কয়রায় ভুয়া চিকিৎসক ও অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে ‘কয়রা সাংবাদিক ফোরাম’-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যার পর উপজেলা পরিষদের সামনে সেবা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফোরামের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক ফোরামের নেতাদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে লোকজন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সংগঠনটি।
ফোরাম সূত্রে জানা যায়, হামলার আশঙ্কায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর কয়রা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেন সংগঠনের সভাপতি এম এম তারিক হাসান (তারিক লিটু)। জিডিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অন্যায়ের খবর প্রকাশের পর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
সাংবাদিক নেতাদের দাবি, জিডি করার পরও হামলা ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বুধবার হামলার সময় পুলিশকে একাধিকবার ফোন করে সহযোগিতা চাওয়া হলেও হামলাকারীরা ব্যানার ও বিলবোর্ডে আগুন দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ তাদের।
কয়রা সাংবাদিক ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও কতিপয় সাংবাদিকের নেতৃত্বে ১১ থেকে ১৫ জনের একটি দল সন্ধ্যার পর কার্যালয়ে হামলা চালায়। সংগঠনের পক্ষ থেকে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ও ইন্ধনদাতা হিসেবে হারুন আর রশিদ, রিয়াসাত আলী, তরিকুল ইসলাম, রউফ, জাহিদুর রহমান ও আবু উবাইদাসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ফোরামের সভাপতি এম এম তারিক হাসান বলেন, ভুয়া চিকিৎসক ও অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তার অভিযোগ, প্রায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে লোকজন ভাড়া করে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ভয়ভীতি বা হামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না। চাপের মধ্যেও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামলার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।






























