ভারতে ক্যান্সারের ওষুধের দাম ৫০% বৃদ্ধি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 50
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং কয়েকটি জরুরি ভ্যাকসিনের সর্বোচ্চ নির্ধারিত খুচরা মূল্য (MRP) একলাফে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির ওষুধ মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি’ (এনপিপিএ)।
সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধ তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামালের (API) দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর পক্ষে পূর্বের দামে উৎপাদন অব্যাহত রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সরবরাহ ঘাটতি এবং সংকট তৈরির একটি বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছিল। সেই বাজার সংকট এড়াতেই মূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী সমন্বয় করা হয়েছে।
এনপিপিএ-এর নতুন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী, মূলত ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপির জন্য বহুল ব্যবহৃত ‘কার্বোপ্লাটিন’ (Carboplatin) এবং ‘সিসপ্লাটিন’ (Cisplatin) ইনজেকশনের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ক্যান্সারের এই জরুরি ওষুধগুলো ছাড়াও, মানুষের টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘অ্যান্টি-টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবুলিন’ (Anti-Tetanus Immunoglobulin) ইনজেকশন এবং বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া’ (SII) কর্তৃক উৎপাদিত শিশুদের বেশ কয়েকটি জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিনের দামও নতুন করে ‘সংশোধন’ ও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এনপিপিএ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব ওষুধের কাঁচামালের আন্তর্জাতিক আমদানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে উৎপাদন সচল রাখা ও সাধারণ রোগীদের জন্য বাজারে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতেই এই মূল্য সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ভারতের স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, বাজারে যদি এই ওষুধগুলোর কৃত্রিম বা প্রকৃত ঘাটতি তৈরি হয়, তবে তা সাধারণ ক্যান্সার রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। এর ফলে রোগীরা বিকল্প হিসেবে আরও কয়েক গুণ বেশি ব্যয়বহুল ও আমদানিকৃত ওষুধ ব্যবহার করতে বাধ্য হতেন, যা তাদের চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিত।
তবে ওষুধ খাতের এই মূল্যবৃদ্ধি স্থায়ী কি না, তা নিশ্চিত করেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর করা হলেও, আগামী ছয় মাস পর সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এই সিদ্ধান্ত পুনরায় পর্যালোচনা (Review) করা হবে।



































