স্থলপথে সুতা আমদানি
ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০২:১৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 405
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্থলপথে সুতা আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম কিছুটা ধীর হয়েছে। এসব বাধা দূর করে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে স্থলবন্দরগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা, বন্ধ সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবও বৈঠকে এসেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কিছু মতপার্থক্য থাকলেও উভয় দেশের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কোনো দেশ বড় বা ছোট নয়; সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে।
যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। এই খাতে ভারত জিপার, বোতাম ও মেশিনারিসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে।
তার মতে, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এতে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়বে।


































