ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাতা বাড়ানোর দাবি মাতৃত্বকালীন সুবিধাভোগী মায়েদের

রীতা ভৌমিক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / 596

দুই বছর ধরে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) আওতায় প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা পাচ্ছেন বরগুনা সদরের মোল্লারহোড়া ডালভাঙার মোসাঃ শারমিন । অটো চালক স্বামীর একার আয়ে সংসার চলে না। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বাররা এলাকা থেকে গর্ভবতীদের নাম নেওয়ার সময় তার নামটিও নেয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনলাইনে আবেদন করে দেয়। ৭ বছরের মেয়ে, দেড় বছরে ছেলে আর স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে তার সংসার।

এই টাকা দিয়ে কি করেন জিজ্ঞেস করতেই মোসাঃ শারমিন (৩২ বছর) বললেন, সংসারের প্রয়োজনে টাকাটা খরচ করি। ছেলে গর্ভে থাকতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করছি। মেয়েরে খাওয়াই। তবে ভাতা প্রতি মাসেও দেয়, আবার দুই মাস পর পরও দেয়। আগে বিকাশে দিতো। এখন ইউনিয়ন পরিষদে ডাইক্যা একাউন্ট কইর‌্যা দিছে ব্যাংকে।

গত বছর দুই মাস গ্যাপ গেছে সেই টাকা আর দেয় নাই। কার কাছে গিয়া বলুম জানি না। সেসঙ্গে এও বললেন, টাকার পরিমাণ একটু বাড়লে ভালো হইতো। দুইট্যা বাচ্চারে একটা ডিম কিন্যা ভাগ কইর‌্যা দিমু , হেইটার দামও ১২ টাকা। দুধ ১০০ টাকা কেজি। কিছুটা আক্ষেপ বেরিয়ে এলো তার কথায়!

দুই মাস ভাতা পাননি, কিন্তু তিনি জানেন না, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে এনআইডি নিয়ে বিষয়টি জানালেই সমস্যার সমাধান পেতেন।

‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতা শেষ হলে তিনি কি কিভাবে চলবেন জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, শিক্ষা কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, একটা ঘর, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে কিছু উপকরণ পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারতাম।

এ দাবি শুধু মোসাঃ শারমিনের একার নয়, এখানকার ভাতাপ্রাপ্ত অনেক মায়ের দাবি এটা।

অন্যদিকে বরগুনার সাত নং ঢলুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ব্লকের গুলগুনিয়া গ্রামের কয়েকজন হত দরিদ্র মায়ের সাথেও কথা হলো। তারা জানালেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির জন্য ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতা প্রদান করছে। এ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বাররা বিষয়টি এই গ্রামের অসচ্ছল গর্ভবতী মায়েদের জানায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তারা।

অথচ ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (মাতৃত্বকালীন ভাতা) হলো সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। যার মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

সরকার দরিদ্র ও অসচ্ছল গর্ভবতী মায়েদের জন্য ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ (মাতৃত্বকালীন ভাতা) পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী নারীরা প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকেন।

তবে আবেদনকারী প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণকালে এই আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২০ বছর বা তার ঊর্ধ্বে হতে হবে।
আবেদনকারীর মোট মাসিক আয় ৮ হাজার টাকার নিচে হতে হবে। অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে ভূমিহীন, দুস্থ ও দরিদ্র প্রতিবন্ধী নারীদের বিবেচনা করা হয়।

এজন্য অবশ্য সরাসরি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট আবেদন ফরম সংগ্রহ এবং জমা দিতে হবে।

অনেকে আবার অভিযোগ জানালেন, এই ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতা পেতে হলে মেম্বাররা টাকা চায়।

এ ব্যাপারে বরগুনা ৮ নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতার প্রস্তাবটা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। অনলাইনে তারা আবেদনগুলো করে দেয়।

প্রস্তাব ও আবেদন সহকারে এই কমিটি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে তা পেশ করে। উপজেলা পর্যায়ের কমিটির কাছে তা উপস্থাপন করা হয়। কমিটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত দেয়। তখন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তা অনুমোদন করে।

আবেদনকারীর বিয়ে ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে হতে হবে। এনআইডি কার্ড না থাকলে, দুই সন্তানের বেশি হলে আবেদন করতে পারবে না। এখানে টাকা পয়সার লেন দেন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ চায় তাহলে তা, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরকে জানাতে হবে।

বরগুনা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বরগুনা জেলার ৪২ টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতাপ্রাপ্ত মা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ হাজার ৭৩২ জন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ হাজার ৪৮০ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮ হাজার ৬৪ জন । তিন বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চলতি বছরে ভাতাপ্রাপ্ত মায়ের সংখ্যা বেড়েছে।

এ ব্যাপারে বরগুনার জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত ) রূপকুমার পাল বলেন, দরিদ্র ও অসচ্ছল গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত আর্থিক সহায়তায় ৩৬ মাস এই ভাতা প্রদান করা হয়। প্রতি মাসে প্রতি মা ৮৫০ টাকা করে ভাতা পান।

তিনি আরো বলেন, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র ( মাতৃত্বকালীন ভাতা ) ভাতা যারা পান তাদের অর্থ যদি কোনো মাসে বিকাশে বা ব্যাংকে না ঢোকে তাহলে এনআইডি নিয়ে এলেই তা যাচাই করা যাবে। পুরো কাজটাই অনলাইনে হয়। এখানে অর্থ করার কোনো সুযোগ নেই।

ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওরের (ডরপ) প্রতিষ্ঠাতা ও গুসি শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এ এইচ এম নোমানের মতে, অস্বচ্ছল ও দরিদ্র মায়েদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও জীবন মানোন্নয়নের জন্য মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র ( মাতৃত্বকালীন ভাতা ) ভাতা বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে ভাতাপ্রাপ্ত মায়েদের সংখ্যা না বাড়ালেও হবে।

উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ৮৫০ টাকা এই সময়ে একজন হবু মায়ের জন্য খুবই কম। যেখানে একজন গার্মেন্টস কর্মীর সবনিম্ন বেতন ৮ হাজার টাকা। সেখানে একজন হবু মাকে সেই পরিমাণ অর্থ দিতে না পারলেও এর অর্ধেক ভাতা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, যারা মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র ( মাতৃত্বকালীন ভাতা ) ভাতা পেয়েছেন, এরপর তারা কি করছেন। মা ও সন্তান সুস্থ পরিবেশে, নিরাপদ জীবনযাপন করছেন কিনা সেটা দেখার দায়িত্বও সরকারের। তারা যাতে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন জীবন যাপন করতে পারেন এক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলেন মনে করেন তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভাতা বাড়ানোর দাবি মাতৃত্বকালীন সুবিধাভোগী মায়েদের

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দুই বছর ধরে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) আওতায় প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা পাচ্ছেন বরগুনা সদরের মোল্লারহোড়া ডালভাঙার মোসাঃ শারমিন । অটো চালক স্বামীর একার আয়ে সংসার চলে না। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বাররা এলাকা থেকে গর্ভবতীদের নাম নেওয়ার সময় তার নামটিও নেয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনলাইনে আবেদন করে দেয়। ৭ বছরের মেয়ে, দেড় বছরে ছেলে আর স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে তার সংসার।

এই টাকা দিয়ে কি করেন জিজ্ঞেস করতেই মোসাঃ শারমিন (৩২ বছর) বললেন, সংসারের প্রয়োজনে টাকাটা খরচ করি। ছেলে গর্ভে থাকতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করছি। মেয়েরে খাওয়াই। তবে ভাতা প্রতি মাসেও দেয়, আবার দুই মাস পর পরও দেয়। আগে বিকাশে দিতো। এখন ইউনিয়ন পরিষদে ডাইক্যা একাউন্ট কইর‌্যা দিছে ব্যাংকে।

গত বছর দুই মাস গ্যাপ গেছে সেই টাকা আর দেয় নাই। কার কাছে গিয়া বলুম জানি না। সেসঙ্গে এও বললেন, টাকার পরিমাণ একটু বাড়লে ভালো হইতো। দুইট্যা বাচ্চারে একটা ডিম কিন্যা ভাগ কইর‌্যা দিমু , হেইটার দামও ১২ টাকা। দুধ ১০০ টাকা কেজি। কিছুটা আক্ষেপ বেরিয়ে এলো তার কথায়!

দুই মাস ভাতা পাননি, কিন্তু তিনি জানেন না, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে এনআইডি নিয়ে বিষয়টি জানালেই সমস্যার সমাধান পেতেন।

‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতা শেষ হলে তিনি কি কিভাবে চলবেন জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, শিক্ষা কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, একটা ঘর, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে কিছু উপকরণ পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারতাম।

এ দাবি শুধু মোসাঃ শারমিনের একার নয়, এখানকার ভাতাপ্রাপ্ত অনেক মায়ের দাবি এটা।

অন্যদিকে বরগুনার সাত নং ঢলুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ব্লকের গুলগুনিয়া গ্রামের কয়েকজন হত দরিদ্র মায়ের সাথেও কথা হলো। তারা জানালেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির জন্য ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতা প্রদান করছে। এ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বাররা বিষয়টি এই গ্রামের অসচ্ছল গর্ভবতী মায়েদের জানায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তারা।

অথচ ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (মাতৃত্বকালীন ভাতা) হলো সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। যার মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

সরকার দরিদ্র ও অসচ্ছল গর্ভবতী মায়েদের জন্য ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ (মাতৃত্বকালীন ভাতা) পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী নারীরা প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকেন।

তবে আবেদনকারী প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণকালে এই আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২০ বছর বা তার ঊর্ধ্বে হতে হবে।
আবেদনকারীর মোট মাসিক আয় ৮ হাজার টাকার নিচে হতে হবে। অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে ভূমিহীন, দুস্থ ও দরিদ্র প্রতিবন্ধী নারীদের বিবেচনা করা হয়।

এজন্য অবশ্য সরাসরি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট আবেদন ফরম সংগ্রহ এবং জমা দিতে হবে।

অনেকে আবার অভিযোগ জানালেন, এই ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতা পেতে হলে মেম্বাররা টাকা চায়।

এ ব্যাপারে বরগুনা ৮ নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতার প্রস্তাবটা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। অনলাইনে তারা আবেদনগুলো করে দেয়।

প্রস্তাব ও আবেদন সহকারে এই কমিটি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে তা পেশ করে। উপজেলা পর্যায়ের কমিটির কাছে তা উপস্থাপন করা হয়। কমিটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত দেয়। তখন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তা অনুমোদন করে।

আবেদনকারীর বিয়ে ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে হতে হবে। এনআইডি কার্ড না থাকলে, দুই সন্তানের বেশি হলে আবেদন করতে পারবে না। এখানে টাকা পয়সার লেন দেন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ চায় তাহলে তা, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরকে জানাতে হবে।

বরগুনা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বরগুনা জেলার ৪২ টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র (মাতৃত্বকালীন ভাতা) ভাতাপ্রাপ্ত মা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ হাজার ৭৩২ জন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ হাজার ৪৮০ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮ হাজার ৬৪ জন । তিন বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চলতি বছরে ভাতাপ্রাপ্ত মায়ের সংখ্যা বেড়েছে।

এ ব্যাপারে বরগুনার জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত ) রূপকুমার পাল বলেন, দরিদ্র ও অসচ্ছল গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত আর্থিক সহায়তায় ৩৬ মাস এই ভাতা প্রদান করা হয়। প্রতি মাসে প্রতি মা ৮৫০ টাকা করে ভাতা পান।

তিনি আরো বলেন, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র ( মাতৃত্বকালীন ভাতা ) ভাতা যারা পান তাদের অর্থ যদি কোনো মাসে বিকাশে বা ব্যাংকে না ঢোকে তাহলে এনআইডি নিয়ে এলেই তা যাচাই করা যাবে। পুরো কাজটাই অনলাইনে হয়। এখানে অর্থ করার কোনো সুযোগ নেই।

ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওরের (ডরপ) প্রতিষ্ঠাতা ও গুসি শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এ এইচ এম নোমানের মতে, অস্বচ্ছল ও দরিদ্র মায়েদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও জীবন মানোন্নয়নের জন্য মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র ( মাতৃত্বকালীন ভাতা ) ভাতা বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে ভাতাপ্রাপ্ত মায়েদের সংখ্যা না বাড়ালেও হবে।

উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ৮৫০ টাকা এই সময়ে একজন হবু মায়ের জন্য খুবই কম। যেখানে একজন গার্মেন্টস কর্মীর সবনিম্ন বেতন ৮ হাজার টাকা। সেখানে একজন হবু মাকে সেই পরিমাণ অর্থ দিতে না পারলেও এর অর্ধেক ভাতা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, যারা মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র ( মাতৃত্বকালীন ভাতা ) ভাতা পেয়েছেন, এরপর তারা কি করছেন। মা ও সন্তান সুস্থ পরিবেশে, নিরাপদ জীবনযাপন করছেন কিনা সেটা দেখার দায়িত্বও সরকারের। তারা যাতে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন জীবন যাপন করতে পারেন এক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলেন মনে করেন তিনি।