ব্রুনো গিমারায়েসের মিসে ভাঙল ব্রাজিলের ইতিহাস
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / 55
মাত্র একটি পেনাল্টি। কিন্তু সেই একটি শটই যেন বদলে দিল পুরো ম্যাচের গল্প, এমনকি ভেঙে দিল ব্রাজিল ফুটবলের চার দশকের এক গৌরবময় ইতিহাস।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে শুরুতেই পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল সেলেসাওদের সামনে। কিন্তু মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিয়ল্যান্ড। সেই মুহূর্তেই ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে যায় নতুন এক অধ্যায়।
ইএসপিএনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নির্ধারিত বা অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলের কোনো ফুটবলার পেনাল্টি মিস করেননি। অর্থাৎ প্রায় ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপের মূল ম্যাচে স্পট কিক থেকে শতভাগ সফল ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ব্রুনোর ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে সেই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার অবসান ঘটল।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে একই ধরনের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে পেনাল্টি পান ব্রাজিল কিংবদন্তি জিকো। কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক জোয়েল বাটস। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল।
জিকোর সেই ব্যর্থতার পর বিশ্বকাপে ব্রাজিল যতবার নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি পেয়েছে, প্রতিবারই গোল করেছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিপক্ষে রাই, ১৯৯৮ সালে চিলির বিপক্ষে রোনালদো, ২০০২ সালে তুরস্কের বিপক্ষে রিভালদো ও চীনের বিপক্ষে রোনালদিনহো, ২০১৪ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নেইমার এবং ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও নেইমার স্পট কিক থেকে সফল হন।
পেনাল্টি মিসের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে আরেকটি প্রশ্ন- স্পট কিকটি নিলেন কেন ব্রুনো গিমারায়েস? অনেকের ধারণা ছিল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই শট নেবেন।
ম্যাচ শেষে কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানান, পুরো এক বছর ধরে দলের পেনাল্টি নেওয়ার সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নেইমার, ইগর থিয়াগো ও রাফিনিয়ার পর ব্রুনো গিমারায়েস ছিলেন নির্ধারিত পেনাল্টি গ্রহণকারীদের একজন। তাই সিদ্ধান্তটি ছিল আগে থেকেই নির্ধারিত।
ব্রুনো গোল করতে পারলে শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত ব্রাজিল। কিন্তু নিয়ল্যান্ডের দুর্দান্ত সেভের পর ম্যাচে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় নরওয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন এরলিং হালান্ড। শেষ দিকে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। এটি ছিল ১৯৯০ সালের পর ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুত বিশ্বকাপ বিদায়।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মূল ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি মিস করা ব্রাজিলের ফুটবলারদের তালিকা খুবই ছোট। ১৯৩৪ সালে ভালদেমার দে ব্রিতো, ১৯৩৮ সালে পাতেস্কো, ১৯৮৬ সালে জিকো এবং এখন ২০২৬ সালে ব্রুনো গিমারায়েস- এই চারজনই সেই তালিকায় আছেন।
একটি পেনাল্টি কখনও কখনও শুধু একটি গোল নয়, একটি দেশের ফুটবল ইতিহাসও বদলে দিতে পারে। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রুনো গিমারায়েসের সেই ব্যর্থ শট হয়তো দীর্ঘদিন তাড়া করে ফিরবে ব্রাজিল সমর্থকদের।




































