ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমিদের
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 97
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। এ দাবিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি জনপদ। জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিরও সম্পর্ক রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনবরণ আনন্দঘন পরিবেশে হওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়, অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে নতুন করে এ ধরনের আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।
ফুজায়েল আহমেদ বলেন, ওই ঘটনার এক মাস না পেরোতেই আবার কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এতে ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে কনসার্ট আয়োজনের বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ওবায়দুল হক। তিনি বলেন, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো দাবি জানানো হয়নি। এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবেও অবগত নন। বিষয়টি জানানো হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটা ওভাবে কনসার্ট নয়, আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।’
তিনি জানান, নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ; এই তিনটি কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত ৩০ মে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করা হয়েছিল।


































