ব্রাজিলকে ঢাকায় আনতে খরচ হবে ৩৭ কোটি টাকা
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 82
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাঠে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, লুকাস পাকেতা কিংবা এনদ্রিকদের ঢাকায় সরাসরি দেখার সুযোগ হলে তা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় আয়োজন হয়ে উঠবে।
তবে এই ম্যাচ আয়োজনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, ব্রাজিলের মতো হেভিওয়েট দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করবে না সরকার।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল জাতীয় দলকে ঢাকায় এনে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৭ কোটি টাকা।
এর আগে ২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার বহুল আলোচিত প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে বাফুফের খরচ হয়েছিল প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন ডলার। সে সময়ের বিনিময় হারে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬ থেকে ২৭ কোটি টাকা।
তুলনামূলকভাবে এবার ব্রাজিলকে আনতে সম্ভাব্য খরচ আরও বড়। মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার উচ্চমূল্যের সময়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচের জন্য এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে সরকারের আপত্তি রয়েছে।
তবে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল হয়নি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাফুফে কিংবা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় স্পনসর সংগ্রহ করতে পারলে সরকার ম্যাচ আয়োজনে সহযোগিতা করবে। সেক্ষেত্রে আয়োজনের আর্থিক দায়ভার বহন করতে হবে স্পনসর বা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, ম্যাচটি আয়োজন করতে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার লাগতে পারে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত বিপুল অর্থ খরচ করে প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের পক্ষে সরকার নয়।
তিনি আরও জানান, বাফুফে যদি কোনো বেসরকারি স্পনসর এনে ম্যাচটি আয়োজন করতে পারে, তাহলে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।
অর্থাৎ, ব্রাজিলকে ঢাকায় এনে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলানোর স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থের পরিবর্তে বেসরকারি স্পনসর ও উদ্যোক্তাদেরই প্রায় ৩৭ কোটি টাকার ব্যয়ভার বহন করতে হবে।


































