ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনজীরকে ফেরাতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 60

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে।

প্রত্যর্পণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে দুবাই পুলিশ। সেই তথ্য প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিগগিরই দুবাইয়ে পাঠানো হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠান।

এরপর সম্প্রতি দুবাই পুলিশ আবারও চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুদকের কাছে পৌঁছেছে। বর্তমানে তদন্ত কর্মকর্তারা চাওয়া তথ্য ও নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রেখেছেন। সেগুলো দ্রুতই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।

দুবাই পুলিশ ঠিক কোন চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন আক্তারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন হওয়ায় চাওয়া তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে যেসব বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চাওয়া হয়েছে, সেসবের জবাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এর আগে দুবাই পুলিশ নীতিগতভাবে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণে সম্মতি জানায়। পরবর্তী আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা এবং দুদক সমন্বিতভাবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দুবাই থেকে পাঠানো সর্বশেষ চিঠির সত্যতা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে দুবাই পুলিশের চাওয়া সাধারণ তথ্য ও নথিপত্র দ্রুত পাঠানো গেলে পরবর্তী প্রক্রিয়াও এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটক রয়েছেন। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুদক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি দলিলসহ ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বেনজীরকে ফেরাতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে।

প্রত্যর্পণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে দুবাই পুলিশ। সেই তথ্য প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিগগিরই দুবাইয়ে পাঠানো হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠান।

এরপর সম্প্রতি দুবাই পুলিশ আবারও চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুদকের কাছে পৌঁছেছে। বর্তমানে তদন্ত কর্মকর্তারা চাওয়া তথ্য ও নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রেখেছেন। সেগুলো দ্রুতই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।

দুবাই পুলিশ ঠিক কোন চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন আক্তারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন হওয়ায় চাওয়া তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে যেসব বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চাওয়া হয়েছে, সেসবের জবাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এর আগে দুবাই পুলিশ নীতিগতভাবে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণে সম্মতি জানায়। পরবর্তী আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা এবং দুদক সমন্বিতভাবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দুবাই থেকে পাঠানো সর্বশেষ চিঠির সত্যতা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে দুবাই পুলিশের চাওয়া সাধারণ তথ্য ও নথিপত্র দ্রুত পাঠানো গেলে পরবর্তী প্রক্রিয়াও এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটক রয়েছেন। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুদক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি দলিলসহ ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠিয়েছে।