বিসিবি বোর্ড ভাঙা ‘অবৈধ’, তদন্ত রিপোর্টও প্রশ্নবিদ্ধ—বুলবুলের দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 35
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন ঘিরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত প্রতিবেদনকে সরাসরি নাকচ করেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
তার ভাষায়, প্রতিবেদনটি শুধু ত্রুটিপূর্ণই নয়, বরং আইনি ভিত্তিও স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টিকে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নজরে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বুলবুল ইঙ্গিত করেন, ৫ এপ্রিল জমা দেওয়া তদন্তটি “দুরভিসন্ধিমূলক” হতে পারে এবং প্রক্রিয়াগত দিক থেকেও তা গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না। তার দাবি, নির্বাচনটি বিসিবির সংবিধান মেনেই সম্পন্ন হয়েছে—এবং অন্তত তার ব্যাখ্যায়, সেখানে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল না।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর গঠিত তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অধীনেই ভোট আয়োজন করা হয়।
কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন; সঙ্গে ছিলেন সিআইডির প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি) সিবগত উল্লাহ এবং এনএসসির একজন নির্বাহী পরিচালক। এই কাঠামোকে তিনি বৈধ বলেই তুলে ধরেন।
নির্বাচনের আগে ১৫টি ক্লাব এবং তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে ওঠা আপত্তিগুলোর কথাও উল্লেখ করেন বুলবুল। তার মতে, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কোয়াসি-জুডিসিয়াল শুনানির মাধ্যমে সেগুলো নিষ্পত্তি হয়। এরপর নির্ধারিত সময়েই ৬ অক্টোবর ভোট অনুষ্ঠিত হয়—যা তিনি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া বলেই দেখছেন।
নির্বাচনকে ‘ফিক্সিং’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগও তিনি খারিজ করেন। এই অভিযোগগুলো কিছু সাবেক ক্রিকেটারের রাজনৈতিক আগ্রহ থেকে তৈরি—এমনটাই ইঙ্গিত তার বক্তব্যে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কারও নাম বলেননি।
এনএসসির তদন্তের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বুলবুল। তার যুক্তি, একটি স্বায়ত্তশাসিত ক্রীড়া সংস্থার সম্পন্ন নির্বাচন নিয়ে এভাবে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা সংস্থাটির থাকার কথা নয়।
আইসিসির নিয়মের কথাও টেনে তিনি বলেন, সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি প্রভাবমুক্ত থাকা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে তদন্তটিকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে দেখছেন এবং ‘কো নন জুডিসিবাস’ উল্লেখ করে এর বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
শুধু তদন্ত নয়, নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকেও তিনি অবৈধ বলছেন। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত নিতে এনএসসির ক্ষমতা সীমিত—বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া, যা এখানে ঘটেছে বলে তিনি মানতে রাজি নন। ফলে এই কমিটিকে তিনি কার্যত অগ্রহণযোগ্য হিসেবেই বর্ণনা করেছেন।
এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রিকেটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও তুলে ধরেন বুলবুল। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করা হলে বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক আয়োজন—সবকিছুর ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলে তার ধারণা।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, এই অস্থিরতার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটারদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও টেনে এনে বলেন, প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সময়ে খেলাধুলায় এমন হস্তক্ষেপ বাস্তবে কতটা উপকারে আসে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
শেষে বুলবুল আইসিসির দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তার বক্তব্য, ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না—যদি না আদালত ভিন্ন কিছু বলে। সেই যুক্তিতে, হাইকোর্ট অন্য কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজেকেই তিনি বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করছেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে এনএসসি বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয় এবং তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে। এই কমিটি তিন মাসের জন্য দায়িত্ব পালন করবে এবং নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বোর্ডে বৈঠক শেষে তামিম বলেন, দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
































