ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমান বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 357

বিমান বাংলাদেশে নতুন নিরাপত্তা বিতর্ক।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ফ্লাইট সেফটি নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, পাইলট নিয়োগ ও ফ্লাইট অপারেশন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সূত্র জানায়, ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচজন পাইলটের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের ‘গ্রাউন্ডেড’ ও সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, ডিরেক্টর ফ্লাইট অপারেশনস (ডিএফও) ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলাম সেই সুপারিশ উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট পাইলটদের নিয়মিত ফ্লাইংয়ে রাখছেন। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আপত্তি উঠলেও তা কার্যকরভাবে আমলে নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে নতুন করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিমানের বর্তমান ডিএফও ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে চরম প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০১৯ সালের জুনে ফিনল্যান্ড সফররত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে দোহা থেকে ঢাকা ফ্লাইটের দায়িত্ব পাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক কাঠামোতে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন।

গত ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের অফিস আদেশ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে রুট চেক কারসাজি এবং পাইলটদের ওপর অতিরিক্ত উড্ডয়ন সময়ের চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটি ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে বর্তমানে তদন্ত চলছে।

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, গুরুতর অভিযোগে তদন্তাধীন কোনো কর্মকর্তাকে নীতিনির্ধারনী পদে রাখা নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী। কিন্তু ক্যাপ্টেন আমিনুল স্বপদে বহাল থাকায় তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়া এবং নথিপত্র নষ্ট হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে (যুগান্তর, ২০২৫) দেখা গেছে, অতিরিক্ত উড্ডয়ন সময়ের কারণে পাইলটদের ওপর প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নীতিমালার পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যাত্রী নিরাপত্তার জন্য একটি ‘টাইম বোম্ব’ এর মতো।

ক্যাপ্টেন আমিনুল কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই হওয়ায় দীর্ঘকাল যাবৎ তদন্তের ঊর্ধ্বে ছিলেন বলে জানা যায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের দাবি উঠলেও বিমানে এখনো বিগত আমলের সুবিধাভোগীদের দাপট কমেনি। দেশি দক্ষ পাইলটদের প্রশাসনিক কাজে বসিয়ে রেখে বিদেশি পাইলটদের দিয়ে বিমান চালানোর যে ব্যয়বহুল ও বৈষম্যমূলক নীতি (দেশ রূপান্তর, ২০২৪) প্রচলিত ছিল, তার পেছনেও তাঁর সরাসরি ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা রয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে দেখা গেছে, অতিরিক্ত উড্ডয়ন সময়ের চাপে বিমানের ৬ জন পাইলট ইতিপূর্বে হার্ট অ্যাটাক করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভুয়া লাইসেন্সধারী বা তদন্তাধীন পাইলটদের দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের বিমান চলাচলের মান ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিমান বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ফ্লাইট সেফটি নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, পাইলট নিয়োগ ও ফ্লাইট অপারেশন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সূত্র জানায়, ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচজন পাইলটের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের ‘গ্রাউন্ডেড’ ও সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, ডিরেক্টর ফ্লাইট অপারেশনস (ডিএফও) ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলাম সেই সুপারিশ উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট পাইলটদের নিয়মিত ফ্লাইংয়ে রাখছেন। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আপত্তি উঠলেও তা কার্যকরভাবে আমলে নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে নতুন করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিমানের বর্তমান ডিএফও ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে চরম প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০১৯ সালের জুনে ফিনল্যান্ড সফররত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে দোহা থেকে ঢাকা ফ্লাইটের দায়িত্ব পাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক কাঠামোতে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন।

গত ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের অফিস আদেশ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে রুট চেক কারসাজি এবং পাইলটদের ওপর অতিরিক্ত উড্ডয়ন সময়ের চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটি ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে বর্তমানে তদন্ত চলছে।

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, গুরুতর অভিযোগে তদন্তাধীন কোনো কর্মকর্তাকে নীতিনির্ধারনী পদে রাখা নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী। কিন্তু ক্যাপ্টেন আমিনুল স্বপদে বহাল থাকায় তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়া এবং নথিপত্র নষ্ট হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে (যুগান্তর, ২০২৫) দেখা গেছে, অতিরিক্ত উড্ডয়ন সময়ের কারণে পাইলটদের ওপর প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নীতিমালার পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যাত্রী নিরাপত্তার জন্য একটি ‘টাইম বোম্ব’ এর মতো।

ক্যাপ্টেন আমিনুল কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই হওয়ায় দীর্ঘকাল যাবৎ তদন্তের ঊর্ধ্বে ছিলেন বলে জানা যায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের দাবি উঠলেও বিমানে এখনো বিগত আমলের সুবিধাভোগীদের দাপট কমেনি। দেশি দক্ষ পাইলটদের প্রশাসনিক কাজে বসিয়ে রেখে বিদেশি পাইলটদের দিয়ে বিমান চালানোর যে ব্যয়বহুল ও বৈষম্যমূলক নীতি (দেশ রূপান্তর, ২০২৪) প্রচলিত ছিল, তার পেছনেও তাঁর সরাসরি ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা রয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে দেখা গেছে, অতিরিক্ত উড্ডয়ন সময়ের চাপে বিমানের ৬ জন পাইলট ইতিপূর্বে হার্ট অ্যাটাক করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভুয়া লাইসেন্সধারী বা তদন্তাধীন পাইলটদের দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের বিমান চলাচলের মান ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পারে।