‘বিদেশে কিছু পেলে ১০ শতাংশ দিয়েন’: আসিফ মাহমুদ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 114
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ, নিয়োগ-পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সিদ্ধান্তের পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন আসিফ মাহমুদ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে আসিফ নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০ শতাংশ দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যে সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জেলায় ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরির অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগে ১০ কোটি টাকা, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারে ভ্রমণ, রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান এবং বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন আসিফ মাহমুদ। অভিযোগে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েও অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তার বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন এবং পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ রোববার এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের নথি অনুযায়ী, অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। শুরুতে তিনি যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে এনসিপিতে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।






























