ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৫ দফা দাবি

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন বাস্তবায়নের দাবি

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 115

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন বাস্তবায়নের দাবি

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছেন যুব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বায়ুদূষণ এখন জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিষ্কার বায়ু কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মৌলিক অধিকার।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্রিদ কোলিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। ‘ব্রিদিং ইন দ্য গ্রে: ফ্রম পলিসি গ্যাপস টু পাবলিক অ্যাকশন ফর ক্লিন এয়ার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির পরিচালক রায়হান নোমান নূরনবী। সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। আলোচনায় অংশ নেন একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মো. মাসুদ পারভেজ অভি, স্মার্ট এয়ার বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলামসহ অন্যরা।

অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ একটি অদৃশ্য, সংক্রামক ও জীবনঘাতী সংকট। এর কারণে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর কমছে। প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত রোগে এক লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের মৃত্যু হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিরাপদ ও পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ু গবেষণা সেল গঠনের সুপারিশ করে তিনি বলেন, বায়ু নিয়ে গবেষণা খুবই কম। অথচ গবেষণা ছাড়া কার্যকর নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়। শুধু সমস্যা তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে টেকসই সমাধানে যুবসমাজকে সক্রিয় অংশীদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মাসুদ পারভেজ অভি বলেন, বায়ুদূষণের কারণে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন জরুরি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২সহ বিদ্যমান নীতি ও কর্মপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও পুলিশের সমন্বয়ে কার্যকর যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং বায়ুদূষণ নিয়ে অভিযোগ জানাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা হটলাইন চালুর দাবি জানানো হয়।

দূষণকারী শিল্প ও স্থাপনার বিরুদ্ধে ‘পলিউটার পেইজ প্রিন্সিপল’ অনুযায়ী আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায়, প্রয়োজন হলে লাইসেন্স স্থগিত, ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং জনবহুল এলাকায় রিয়েল-টাইম এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) প্রদর্শনের দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি দৈনিক বায়ুমান বুলেটিন প্রকাশের কথাও বলা হয়েছে।

নির্মাণ এলাকায় ধুলা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নিয়মিত পানি ছিটানো এবং ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। খোলা জায়গায় বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধে নজরদারি, অতিরিক্ত দূষণের সময়ে জনস্বাস্থ্য সতর্কতা এবং ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য উপযুক্ত মাস্ক সরবরাহেরও দাবি রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজেট ও সরঞ্জাম বাড়ানো, গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বছরব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারি নীতি প্রণয়ন ও মূল্যায়নে তরুণ গবেষক ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং সরকারি তদারকি ও বাস্তবায়ন কমিটিতে ব্রিদ কোয়ালিশনসহ যুব প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্বাধীন পরিবীক্ষক অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

১৫ দফা দাবি

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন বাস্তবায়নের দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছেন যুব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বায়ুদূষণ এখন জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিষ্কার বায়ু কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মৌলিক অধিকার।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্রিদ কোলিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। ‘ব্রিদিং ইন দ্য গ্রে: ফ্রম পলিসি গ্যাপস টু পাবলিক অ্যাকশন ফর ক্লিন এয়ার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির পরিচালক রায়হান নোমান নূরনবী। সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। আলোচনায় অংশ নেন একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মো. মাসুদ পারভেজ অভি, স্মার্ট এয়ার বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলামসহ অন্যরা।

অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ একটি অদৃশ্য, সংক্রামক ও জীবনঘাতী সংকট। এর কারণে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর কমছে। প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত রোগে এক লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের মৃত্যু হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিরাপদ ও পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ু গবেষণা সেল গঠনের সুপারিশ করে তিনি বলেন, বায়ু নিয়ে গবেষণা খুবই কম। অথচ গবেষণা ছাড়া কার্যকর নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়। শুধু সমস্যা তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে টেকসই সমাধানে যুবসমাজকে সক্রিয় অংশীদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মাসুদ পারভেজ অভি বলেন, বায়ুদূষণের কারণে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন জরুরি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২সহ বিদ্যমান নীতি ও কর্মপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও পুলিশের সমন্বয়ে কার্যকর যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং বায়ুদূষণ নিয়ে অভিযোগ জানাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা হটলাইন চালুর দাবি জানানো হয়।

দূষণকারী শিল্প ও স্থাপনার বিরুদ্ধে ‘পলিউটার পেইজ প্রিন্সিপল’ অনুযায়ী আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায়, প্রয়োজন হলে লাইসেন্স স্থগিত, ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং জনবহুল এলাকায় রিয়েল-টাইম এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) প্রদর্শনের দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি দৈনিক বায়ুমান বুলেটিন প্রকাশের কথাও বলা হয়েছে।

নির্মাণ এলাকায় ধুলা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নিয়মিত পানি ছিটানো এবং ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। খোলা জায়গায় বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধে নজরদারি, অতিরিক্ত দূষণের সময়ে জনস্বাস্থ্য সতর্কতা এবং ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য উপযুক্ত মাস্ক সরবরাহেরও দাবি রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজেট ও সরঞ্জাম বাড়ানো, গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বছরব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারি নীতি প্রণয়ন ও মূল্যায়নে তরুণ গবেষক ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং সরকারি তদারকি ও বাস্তবায়ন কমিটিতে ব্রিদ কোয়ালিশনসহ যুব প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্বাধীন পরিবীক্ষক অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।