ঢাকা ০১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঙালির প্রাণের উৎসব: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বরণ নতুন বছর

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 118

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ উদযাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া জাঁকজমকপূর্ণ মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় অংশ নেন উপাচার্যসহ বিশিষ্টজন, বিদেশি কূটনীতিক ও সাধারণ নগরবাসী। পাঁচটি বিশালাকার মোটিফ, ১৫০ ফুটের পটচিত্র এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবারের আয়োজনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

নতুন সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই উৎসবের আমেজে মেতেছে বাঙালি। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণিল আয়োজনে বের করা হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিছিলে অংশ নিতে কাকডাকা ভোর থেকেই সাদা-লাল পোশাকে সেজে চারুকলা এলাকায় ভিড় করেন হাজারো মানুষ।

এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ও আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল পাঁচটি বিশাল মোটিফ— মোরগ, বেহালা, শান্তির পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এছাড়া প্রায় ৪০ জন শিল্পীর বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনা এবং ১৫০ ফুট দীর্ঘ একটি দৃষ্টিনন্দন পটচিত্রের স্ক্রল পেইন্টিং পুরো আয়োজনকে এক শৈল্পিক রূপ দান করে।

অংশগ্রহণ ও সংহতি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্যবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং দেশের ১০টি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা, যা বাংলাদেশের বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের এক জোরালো বার্তা প্রদান করেছে।

ডিএমপির ১০টি ঘোড়সওয়ার দল শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থেকে আভিজাত্য যোগ করে। এসময় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর একটি দল জাতীয় পতাকা বহন করে দেশপ্রেমের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এবং পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন ঘটায়।

চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ ও দোয়েল চত্বর ঘুরে আসা এই দীর্ঘ শোভাযাত্রার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশাল বহর। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় বাঙালির এই মিলনমেলা।

বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই উৎসব কেবল নতুন বছরকে স্বাগত জানানো নয়, বরং বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের এক অনন্য স্মারক হিসেবে আবারও প্রমাণিত হলো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাঙালির প্রাণের উৎসব: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বরণ নতুন বছর

সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া জাঁকজমকপূর্ণ মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় অংশ নেন উপাচার্যসহ বিশিষ্টজন, বিদেশি কূটনীতিক ও সাধারণ নগরবাসী। পাঁচটি বিশালাকার মোটিফ, ১৫০ ফুটের পটচিত্র এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবারের আয়োজনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

নতুন সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই উৎসবের আমেজে মেতেছে বাঙালি। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণিল আয়োজনে বের করা হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিছিলে অংশ নিতে কাকডাকা ভোর থেকেই সাদা-লাল পোশাকে সেজে চারুকলা এলাকায় ভিড় করেন হাজারো মানুষ।

এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ও আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল পাঁচটি বিশাল মোটিফ— মোরগ, বেহালা, শান্তির পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এছাড়া প্রায় ৪০ জন শিল্পীর বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনা এবং ১৫০ ফুট দীর্ঘ একটি দৃষ্টিনন্দন পটচিত্রের স্ক্রল পেইন্টিং পুরো আয়োজনকে এক শৈল্পিক রূপ দান করে।

অংশগ্রহণ ও সংহতি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্যবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং দেশের ১০টি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা, যা বাংলাদেশের বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের এক জোরালো বার্তা প্রদান করেছে।

ডিএমপির ১০টি ঘোড়সওয়ার দল শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থেকে আভিজাত্য যোগ করে। এসময় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর একটি দল জাতীয় পতাকা বহন করে দেশপ্রেমের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এবং পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন ঘটায়।

চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ ও দোয়েল চত্বর ঘুরে আসা এই দীর্ঘ শোভাযাত্রার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশাল বহর। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় বাঙালির এই মিলনমেলা।

বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই উৎসব কেবল নতুন বছরকে স্বাগত জানানো নয়, বরং বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের এক অনন্য স্মারক হিসেবে আবারও প্রমাণিত হলো।