ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-চীন চিকিৎসা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 74

বাংলাদেশ-চীন চিকিৎসা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ

চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনের ইউনান প্রদেশের প্রাদেশিক সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এবং কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সভা ও কর্মশালার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ কিয়াং বলেন, কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক দুই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। এর আওতায় চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ দেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরেন। চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক চিকিৎসা অগ্রগতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জটিল রোগের চিকিৎসায় রোগীরা এখানে আসেন। পাশাপাশি পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির বিকাশেও বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, জটিল ও বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি, আধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি ও উন্নত চিকিৎসাসেবায় দেশের সক্ষমতা বাড়ছে।

কিডনি প্রতিস্থাপনের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নত সার্জিক্যাল পদ্ধতি, মাল্টিডিসিপ্লিনারি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেয়ার, আধুনিক ইমিউনোসাপ্রেশন এবং অপারেশন-পূর্ব ও পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির ফলে দেশে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও এ সেবা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোলজিতে মিনিমালি ইনভেসিভ প্রোসিডিউর, এন্ডোইউরোলজি, ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি ও আধুনিক সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশনের ব্যবহার দেশে বাড়ছে। দক্ষ জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময় এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট, আধুনিক সার্জিক্যাল প্রযুক্তি, চিকিৎসা গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম।

বৈঠকে উভয় পক্ষ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাংলাদেশ-চীন চিকিৎসা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনের ইউনান প্রদেশের প্রাদেশিক সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এবং কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সভা ও কর্মশালার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ কিয়াং বলেন, কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক দুই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। এর আওতায় চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ দেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরেন। চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক চিকিৎসা অগ্রগতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জটিল রোগের চিকিৎসায় রোগীরা এখানে আসেন। পাশাপাশি পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির বিকাশেও বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, জটিল ও বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি, আধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি ও উন্নত চিকিৎসাসেবায় দেশের সক্ষমতা বাড়ছে।

কিডনি প্রতিস্থাপনের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নত সার্জিক্যাল পদ্ধতি, মাল্টিডিসিপ্লিনারি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেয়ার, আধুনিক ইমিউনোসাপ্রেশন এবং অপারেশন-পূর্ব ও পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির ফলে দেশে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও এ সেবা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোলজিতে মিনিমালি ইনভেসিভ প্রোসিডিউর, এন্ডোইউরোলজি, ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি ও আধুনিক সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশনের ব্যবহার দেশে বাড়ছে। দক্ষ জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময় এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট, আধুনিক সার্জিক্যাল প্রযুক্তি, চিকিৎসা গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম।

বৈঠকে উভয় পক্ষ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।