বাংলাদেশে এবার বন্যার শঙ্কা কতটা?
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / 162
বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বৃষ্টি। আর সেই সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বন্যার আশঙ্কা।
সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ভৌগোলিক অবস্থান, মৌসুমি বায়ু এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইতোমধ্যে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তরাঞ্চল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ২৮ জুনের পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাতের কারণে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশের বড় বন্যাগুলোর পেছনে উজানের পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইতোমধ্যে ভারতের অংশে তিস্তা নদীর ওপর বাঁধ খুলে দেওয়ার পর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি সতর্ক সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
আবহাওয়া অফিসও জানিয়েছে, চলতি বছরে এরইমধ্যে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু করেছে, যার ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলা এবং ময়মনসিংহ ও সিলেটের দিকে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় নদ-নদীর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তবে তিন দিনের পর বাংলাদেশ এবং উজানের এলাকায় বৃষ্টিপাত বেড়ে গেলে নদীর পানিও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে দেশের কিছু অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বিবিসি বাংলাকে জানান, অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা খুব একটা নেই।
“আমাদের দেশের যে বন্যাগুলো হয় সেটি মূলত আপার স্ট্রিম অর্থাৎ উপরের দিকে ভারতের যে রাজ্যগুলো আছে সেখানকার পানির প্রভাবে। আমাদের ভূখণ্ডের বৃষ্টি থেকে যদি হয়, সেটিতে খুব দ্রুতই পানি নেমে যায়,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।
বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বা এফএফডব্লিউসি এর নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলছেন, বর্তমানে বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি সতর্ক সীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
“আগামী তিন দিনে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে এরপর থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে বাংলাদেশ এবং উজানের দেশে নদীর পানি বাড়তে পারে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. রায়হান।
তিনি বলছেন, সাম্প্রতিক যে তথ্য ভারত সরবরাহ করেছে তাতে দেশটির গজলডোবা এবং ডৌমুহুনি পয়েন্টে নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী তিনদিন ভারতের তিস্তা নদী সংলগ্ন অংশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।
“তিনদিন পর বৃষ্টি বাড়তে পারে, যার ফলে নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে দেশের কিছু সাত অথবা দশদিন পর বিভিন্ন জায়গায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে,” বলেও জানান তিনি।
তাই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষকে সর্বশেষ পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



































