বর্ষার আগেই রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 67
বর্ষাকাল পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীতে নতুন করে মশার উপদ্রবে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। মশার কামড়ে এখনই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রাজধানীবাসী এবং হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। সরেজমিনে রাজধানীর কাঁটাবনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের পাশে ও ড্রেনে জমে থাকা পানি মশার প্রধান প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুতল ভবনের ওপরের তলাগুলোতেও মশার উপদ্রব মারাত্মক রূপ নিয়েছে, অথচ সিটি করপোরেশনের নিয়মিত ফগিং বা কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রম এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে, আর এবারের সাম্প্রতিক চিত্রও ঠিক একই সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
রাজধানীতে ডেঙ্গুর এই আগাম বিস্তারের মুখে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকেরা বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। ডিএনসিসি ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রিফাত আল ইমন জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে শুরুতেই আলাদা রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক মশারির ভেতরে রাখা নিশ্চিত করতে হবে।
এতে মশা আক্রান্ত রোগীকে কামড়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে নতুন করে ভাইরাস ছড়াতে পারবে না এবং সংক্রমণের চেইন ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু রোগী সুস্থ করা সম্ভব হলেও, পাড়া-মহল্লায় মশার বংশবিস্তার বন্ধ না করা গেলে এই রোগের ভয়াবহতা কখনোই কমানো যাবে না।
ডেঙ্গুর এই চোখ রাঙানির মুখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নগরবাসীর অসচেতনতাকে দায়ী করছে। ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন জানান, তারা বাড়ির আশপাশে ওষুধ ছিটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে ঘরের ভেতরে ফুলদানি বা পাত্রে জমে থাকা লার্ভা ধ্বংসে নাগরিকদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আক্রান্তদের বাসাবাড়ি থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের পর মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে যদি মশার প্রজননস্থলগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে অপসারণ করা যায়, তবে অন্তত ৫০ শতাংশ লার্ভা উৎপাদনের জায়গা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।





































