বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 89
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় এক সৌদি আরবপ্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে সুজন আকন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর ওই গৃহবধূ সুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন। একই সঙ্গে সুজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদেকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুজন আকন একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই গৃহবধূর স্বামী প্রায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। কয়েক বছর আগে দেশে এসে বিয়ে করার পর পুনরায় বিদেশে চলে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সোমবার রাতে বাড়ির একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে কক্ষে প্রবেশ করে তারা ওই নারী ও সুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন। এরপর স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও সমঝোতা না হওয়ায় পরদিন তাদের থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের দাবি, এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় দুজনকে সতর্ক করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, প্রবাসী স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে সুজনের সঙ্গে ওই নারীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
অন্যদিকে, পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ওই নারী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল এবং তিনি একাধিকবার তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। পরে তিনি সুজন আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে থানায় এজাহার দায়ের করেন।
তবে সুজন আকন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওই নারী তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, সুজন আকনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও ভিন্নমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজন তাকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে দাবি করলেও দলটির স্থানীয় নেতৃত্ব তা অস্বীকার করেছে। ইউনিয়ন জামায়াতের এক সদস্য বলেন, সুজনকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে। তবে সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. সেলিম শিকদার বলেন, সুজন সংগঠনের কোনো নেতা বা কর্মী নন। কোনো সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকলেই কাউকে দলের সদস্য বলা যায় না।
ফলে সুজন আকন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন বলেন, একই কক্ষে দুজনকে আটকের পর ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে সুজন আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।






























