ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাঁকা গুলি ছুড়ে যুবককে কুপিয়ে জখম, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 56

ফাঁকা গুলি ছুড়ে যুবককে কুপিয়ে জখম, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

বগুড়ায় জমি ও আমবাগানের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত মোকসেদ আলী (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোকসেদ আলী বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালী উত্তরপাড়া এলাকার হায়দার আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বারোপুর মৌজায় ন্যাশনাল ফ্যান কোম্পানির মালিকানাধীন ৩২ বিঘার একটি আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে মোকসেদের সঙ্গে একটি পক্ষের বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে মাটিডালী উত্তরপাড়ায় একটি দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় তার ওপর হামলা চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই রাতে মোটরসাইকেল ও হায়েস গাড়িতে করে একদল লোক সেখানে আসে। তারা অস্ত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সবাই ছোটাছুটি শুরু করেন। একপর্যায়ে মোকসেদকে একা পেয়ে রামদা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

হামলার পর বগুড়া জেলা পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে পিস্তলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

গুরুতর আহত মোকসেদকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মোকসেদের মা রেবেকা বেগম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাজমুল হুদা রাফিত (২১) ও হাছান আকন্দকে (২৪) গ্রেপ্তার করে।

অন্যদিকে র‍্যাব-১২-এর একটি দল শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা বোট ক্লাব এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি সিজার শেখ (২৫) ও তদন্তে পাওয়া আসামি মহরমকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে। একই অভিযানে তাদের সঙ্গে থাকা রুবাই (২২), আশিকুর রহমান আকাশ (৩১) ও আবু জিহাদকে (২৮) আটক করে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ডিবির হাতে দুইজন এবং র‍্যাবের হাতে পাঁচজনসহ মোট সাতজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত মোকসেদ মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর আগের মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফাঁকা গুলি ছুড়ে যুবককে কুপিয়ে জখম, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০২:১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় জমি ও আমবাগানের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত মোকসেদ আলী (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোকসেদ আলী বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালী উত্তরপাড়া এলাকার হায়দার আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বারোপুর মৌজায় ন্যাশনাল ফ্যান কোম্পানির মালিকানাধীন ৩২ বিঘার একটি আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে মোকসেদের সঙ্গে একটি পক্ষের বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে মাটিডালী উত্তরপাড়ায় একটি দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় তার ওপর হামলা চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই রাতে মোটরসাইকেল ও হায়েস গাড়িতে করে একদল লোক সেখানে আসে। তারা অস্ত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সবাই ছোটাছুটি শুরু করেন। একপর্যায়ে মোকসেদকে একা পেয়ে রামদা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

হামলার পর বগুড়া জেলা পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে পিস্তলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

গুরুতর আহত মোকসেদকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মোকসেদের মা রেবেকা বেগম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাজমুল হুদা রাফিত (২১) ও হাছান আকন্দকে (২৪) গ্রেপ্তার করে।

অন্যদিকে র‍্যাব-১২-এর একটি দল শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা বোট ক্লাব এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি সিজার শেখ (২৫) ও তদন্তে পাওয়া আসামি মহরমকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে। একই অভিযানে তাদের সঙ্গে থাকা রুবাই (২২), আশিকুর রহমান আকাশ (৩১) ও আবু জিহাদকে (২৮) আটক করে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ডিবির হাতে দুইজন এবং র‍্যাবের হাতে পাঁচজনসহ মোট সাতজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত মোকসেদ মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর আগের মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’