প্রস্তুতি ম্যাচের হতাশা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চান শান্তরা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / 58
অস্ট্রেলিয়ার লম্বা ও গতিময় পেসারদের বিপক্ষে বাড়তি বাউন্স সামলানোই ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা নিয়ে বেশি ভাবতে চান না তিনি। বরং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি হয়েছে বলে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ অধিনায়ক।
২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় অবশ্য দলের ব্যাটিং নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে শান্ত মনে করেন, প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মূল লড়াইয়ে ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব।
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘বাউন্স সামলানোই মূল চ্যালেঞ্জ। তবে গত কয়েক মাস ধরে আমরা দেশের মাটিতেও বাউন্সি উইকেটে অনুশীলন করেছি। এতে আমাদের কিছুটা ধারণা হয়েছে। এখানে বাউন্স থাকবে, আর টেস্টের ১০-১২ দিন আগে এসে আমরা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছি। ফলে বাউন্স সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারণা হয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখলেও সেটিকে নিজেদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন শান্ত। প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে এর আগেও আমাদের খারাপ দিন গেছে। এবারও তেমন একটি দিন ছিল। প্রস্তুতি পর্বে এমনটা হতেই পারে। তবে আমরা বেশ ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি।’
বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, নতুন বল সামলানোই হবে ব্যাটারদের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমরা এ নিয়ে অনেক কাজ করেছি। নতুন বলের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জটা বেশি হবে। সবাই নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলবে এবং রান করার চেষ্টা করবে। আমাদের লক্ষ্য হবে যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ব্যাট করা। প্রতিপক্ষ বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণ হওয়ায় ধারাবাহিকতা ও মনোযোগ ধরে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে শান্তকে। বিশেষ করে জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেটিই ছিল প্রথম দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়।
শান্ত বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। প্রথমবার আমরা তাদের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছি। ভালো উইকেটে খেলেছি, সেটিও আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।’
টেস্টেও গত দুই-তিন বছরে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন শান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গত দুই-তিন বছর যদি দেখেন, টেস্ট ক্রিকেটে আমরা ভালো করছি। দল হিসেবে উন্নতি হয়েছে। আগের চক্রে আমরা সপ্তম হয়েছিলাম, এখন চতুর্থ স্থানে আছি। সামনে আমাদের আরও আটটি টেস্ট রয়েছে। ধীরে ধীরে দল হিসেবে আমরা উন্নতি করছি। বোলিং ইউনিট দারুণ কাজ করছে। ব্যাটিংয়ে যদি আমরা আরেকটু উন্নতি করতে পারি, তাহলে সামনে এটি আরও ভালো একটি দল হয়ে উঠবে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে লিটন দাসের ফিট হয়ে ওঠাও বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়েছে। নিচের সারির ব্যাটিংয়ে লিটনের উপস্থিতি দলের গভীরতা বাড়াবে বলে মনে করেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘লিটন আমাদের ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ায়। সে ধারাবাহিক একজন ব্যাটার। আমরা আশাবাদী, আমাদের ব্যাটিং ইউনিট এই টেস্টে ভালো করবে।’
ডারউইনের উইকেট দেখে দুই স্পিনার খেলানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একাদশে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম; দুই মূল স্পিনারই থাকতে পারেন। তাদের সঙ্গে তিন পেসার খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
শান্ত বলেন, ‘উইকেটটা বেশ ভালো মনে হচ্ছে। আমরা এর আগে ড্রপ-ইন উইকেটে খেলার সুযোগ পাইনি। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের যেকোনো চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। প্রস্তুতিও হয়েছে। উইকেটে ঘাস আছে, তবে এটি এমন একটি ভালো উইকেট যেখানে ব্যাটার ও বোলার; দুই পক্ষই সহায়তা পাবে। আশা করি, বোলাররা আমাদের ভালো ফল এনে দিতে পারবে।’
কাগজে-কলমে অবশ্য অস্ট্রেলিয়াই এগিয়ে। তাদের একাদশে রয়েছেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো বিশ্বমানের বোলাররা। অন্যদিকে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা নাহিদ রানা চোটের কারণে এই সিরিজে নেই। তবু লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাস হারাতে চান না শান্ত। প্রস্তুতি ম্যাচের ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার প্রসঙ্গও তাই পেছনে ফেলতে চান তিনি।
বাংলাদেশ অধিনায়কের লক্ষ্য, ম্যাচটিকে শেষ দিন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। শান্ত বলেন, ‘আমরা পঞ্চম দিন পর্যন্ত খেলতে চাই। সেশন ধরে ধরে এগোতে চাই। আমরা পঞ্চম দিন পর্যন্ত যেতে পারব কিনা, তা নিয়ে সবসময় আলোচনা থাকবে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে ম্যাচটি পঞ্চম দিন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া।’



































