পে-স্কেলের গেজেট জারি হচ্ছে না কেন?
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 217
মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো এর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ হয়নি। দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ ও স্বস্তি তৈরি হলেও গেজেট প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক আমলা ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তাদের মতে, নতুন বেতন কাঠামোর মতো বড় ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারির আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক, আইনি ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর গণমাধ্যমে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি। এটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি কোনো ফাইল আটকে রাখার নয়। সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ঠিক করে একটি ত্রুটিমুক্ত খসড়া তৈরিতে সময় লাগছে। বিশেষ করে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা ও হিসাব চূড়ান্ত করাই এ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, মন্ত্রিসভায় মূলত গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির একটি নীতিগত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এরপর প্রজ্ঞাপনে কোন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে কীভাবে তা কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত হিসাব ও বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ আদেশের খসড়া তৈরি করতে হয় অর্থ মন্ত্রণালয়কে।
খসড়া প্রস্তুতের পর তা আইনি যাচাই বা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে প্রস্তাবিত কাঠামোর সঙ্গে সংবিধান ও বিদ্যমান চাকরি আইনের কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় বা আইনি অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে চূড়ান্ত খসড়া সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হবে। এরপর মুদ্রণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
অতীতের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলেও এবার দুই সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ না হওয়াকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছিল ৭ সেপ্টেম্বর। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৫ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারসহ অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, নতুন পে-স্কেলের মতো বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে।
আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে খসড়া পাওয়ার পর ভেটিং প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে শিগগিরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।






























