ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ মাসে কুমিল্লায় এইডসে ৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৭

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 84

প্রতীকী ছবি

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কুমিল্লায় এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে কুমিল্লা জেলার ৩৮৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুমেক এআরটি সেন্টারে মোট চিকিৎসাসেবাগ্রহীতার সংখ্যা ৬১৫ জন। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৪৬টি পরীক্ষায় ২৭৮ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছেন ৪৬ জন।

সর্বশেষ ২৫ মে ২১ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ১৩ মে ৪৯ বছর বয়সী একজন এবং ৮ মে ৩৫ বছর বয়সী আরেকজন পুরুষ মারা যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজন এবং মে মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ২২৬টি পরীক্ষায় ১৫ জন শনাক্ত হলেও ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৪২টি পরীক্ষায় শনাক্ত হন ৭২ জন। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই শনাক্ত হয়েছেন ৩৭ জন।

এ বছর শনাক্ত হওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে, ৩ জন জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে এবং ২ জন বিদেশে অবস্থানকালে সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া ৪ জন একই সঙ্গে যক্ষ্মা ও এইচআইভিতে আক্রান্ত।

২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৯১ জন সংক্রমিত হয়েছেন পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে। এছাড়া ৪০ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ৪৯ জন প্রবাসফেরত ব্যক্তি, ৪১ জন সংক্রমিত জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে, ২১ জন নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে এবং ৩২ জন সাধারণ জনগণ শনাক্ত হয়েছেন।

মো. আরিফ হাসান বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ নতুন সংক্রমণ যৌনবাহিত। সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব ও গোপনীয়তার কারণে অনেকেই সময়মতো পরীক্ষা করাতে আসেন না। ফলে রোগ শনাক্তে বিলম্ব হয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার আক্রান্তদের বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করে। নিয়মিত চিকিৎসা নিলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাঁচ মাসে কুমিল্লায় এইডসে ৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৭

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কুমিল্লায় এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে কুমিল্লা জেলার ৩৮৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুমেক এআরটি সেন্টারে মোট চিকিৎসাসেবাগ্রহীতার সংখ্যা ৬১৫ জন। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৪৬টি পরীক্ষায় ২৭৮ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছেন ৪৬ জন।

সর্বশেষ ২৫ মে ২১ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ১৩ মে ৪৯ বছর বয়সী একজন এবং ৮ মে ৩৫ বছর বয়সী আরেকজন পুরুষ মারা যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজন এবং মে মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ২২৬টি পরীক্ষায় ১৫ জন শনাক্ত হলেও ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৪২টি পরীক্ষায় শনাক্ত হন ৭২ জন। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই শনাক্ত হয়েছেন ৩৭ জন।

এ বছর শনাক্ত হওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে, ৩ জন জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে এবং ২ জন বিদেশে অবস্থানকালে সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া ৪ জন একই সঙ্গে যক্ষ্মা ও এইচআইভিতে আক্রান্ত।

২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৯১ জন সংক্রমিত হয়েছেন পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে। এছাড়া ৪০ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ৪৯ জন প্রবাসফেরত ব্যক্তি, ৪১ জন সংক্রমিত জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে, ২১ জন নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে এবং ৩২ জন সাধারণ জনগণ শনাক্ত হয়েছেন।

মো. আরিফ হাসান বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ নতুন সংক্রমণ যৌনবাহিত। সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব ও গোপনীয়তার কারণে অনেকেই সময়মতো পরীক্ষা করাতে আসেন না। ফলে রোগ শনাক্তে বিলম্ব হয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার আক্রান্তদের বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করে। নিয়মিত চিকিৎসা নিলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।