ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে তীব্র সেচ সংকট, হুমকিতে বোরো ফসল

হৃদয় রায় সজীব, নেত্রকোনা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / 109

সেচের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলের মাঠ। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

নেত্রকোণা জেলার হাওরাঞ্চলে নদ-নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় তীব্র সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক স্থানে সেচ মেশিনেও পানি উঠছে না। এতে হাওরের একমাত্র বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেক জমির ধানক্ষেত শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা জুড়ে ছোট-বড় অন্তত ৯৫টি নদী দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে কংস নদী, সোমেশ্বরী নদী, ধনু নদী ও মগড়া নদীতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এসব নদী এবং হাওরের খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বোরো চাষে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, নদীগুলোতে পানি না থাকায় অনেক জায়গায় নদীর তলদেশেও চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এতে নদীগুলো আরও দ্রুত ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত নদী খননের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, ভরাট হয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলো পুনঃখনন করা হলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর নেত্রকোণা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলার প্রধান নদীগুলো খননের জন্য প্রাথমিক জরিপ কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে এবং পরিবেশও পুনরুজ্জীবিত হবে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, হাওরের খাল-বিল ও জলাশয় সংরক্ষণে খনন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণার নদ-নদীগুলোকে দখল, দূষণ ও ভরাটের হাত থেকে রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে তীব্র সেচ সংকট, হুমকিতে বোরো ফসল

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

নেত্রকোণা জেলার হাওরাঞ্চলে নদ-নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় তীব্র সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক স্থানে সেচ মেশিনেও পানি উঠছে না। এতে হাওরের একমাত্র বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেক জমির ধানক্ষেত শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা জুড়ে ছোট-বড় অন্তত ৯৫টি নদী দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে কংস নদী, সোমেশ্বরী নদী, ধনু নদী ও মগড়া নদীতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এসব নদী এবং হাওরের খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বোরো চাষে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, নদীগুলোতে পানি না থাকায় অনেক জায়গায় নদীর তলদেশেও চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এতে নদীগুলো আরও দ্রুত ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত নদী খননের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, ভরাট হয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলো পুনঃখনন করা হলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর নেত্রকোণা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলার প্রধান নদীগুলো খননের জন্য প্রাথমিক জরিপ কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে এবং পরিবেশও পুনরুজ্জীবিত হবে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, হাওরের খাল-বিল ও জলাশয় সংরক্ষণে খনন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণার নদ-নদীগুলোকে দখল, দূষণ ও ভরাটের হাত থেকে রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।