নীলফামারীতে স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম বিতরণ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 45
সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নিম্নমানের ও পচা খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায়, যা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে পচা ডিম ও নিম্নমানের কলা বিতরণের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, পাশাপাশি তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা ডিম সরবরাহের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও গত বৃহস্পতিবার একই বিদ্যালয়ে এমন অনিয়ম দেখা গেছে।
সরকারের এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির লক্ষ্য মূলত শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো। কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবেই নিম্নমানের ও অনুপযোগী খাদ্য সরবরাহ করছে, যা পুরো প্রকল্পের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সমস্যা শুধু একটি বিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ নয়। উপজেলার আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের পচা বা নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। বারবার জানানোর পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগও উঠেছে।
এক অভিভাবক মনোয়ার হোসেনের ভাষায়, শিশুদের জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে এমন খাবার দেওয়া দায়িত্বহীনতার শামিল। তার আশঙ্কা, এসব খাদ্য শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আরেক অভিভাবক সালমা বেগমের মন্তব্য ছিল আরও কঠোর—তার মতে, এমন খাবার না দেওয়াই বরং নিরাপদ ছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা বেগম জানান, ডিম বিতরণের পরই কিছু ডিম পচা অবস্থায় ধরা পড়ে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেগুলো দ্রুত ফেরত পাঠানো হয় এবং বিষয়টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার মতো সংবেদনশীল কর্মসূচিতে এ ধরনের অনিয়ম শুধু অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিতই নয়, বরং তদারকির ঘাটতিও তুলে ধরছে। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
































