ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুরির ঘটনায় বারবার নাম বদল, চাপ ক্ষতিপূরণের

পুলক রায়, শেরপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 66

নালিতাবাড়ীতে চুরির ঘটনায় স্যানিটারি মিস্ত্রিকে ফাঁসানোর অভিযোগ

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অটোরিকশাচালকের বাড়িতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বিরোধ থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে। চুরির ঘটনায় এক যুবকের দেওয়া বক্তব্যে বারবার নাম পরিবর্তন এবং এক স্যানিটারি মিস্ত্রিকে চুরি যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গত ৭ জুলাই উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের কয়রাকুড়ি গ্রামের অটোরিকশাচালক খলিলুর রহমানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওইদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাশের ভটপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে যান তিনি। রাতে বাড়ি ফিরে দেখতে পান, ঘরের প্লাস্টিকের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ারের তালা খোলা। ড্রয়ারে রাখা ২০ হাজার টাকা ও প্রায় আট আনা স্বর্ণালঙ্কার সেখানে নেই।

চুরির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় একই গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে সোহান (১৯) চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের সন্ধান করা হলেও সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

পরে সোহানের বক্তব্যে রাকিব নামে এক যুবকের নাম আসে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এরপর সোহান একই এলাকার স্যানিটারি মিস্ত্রি মুক্তার হোসেনের নাম উল্লেখ করেন।

এর পরই মুক্তার হোসেনকে চুরির ঘটনায় দায়ী করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। মুক্তারের অভিযোগ, স্থানীয় একটি পক্ষ চুরি যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য পরিশোধের জন্য তাঁকে চাপ দিচ্ছে। তবে চুরির সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধের মধ্যে গত ২৩ আগস্ট এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওইদিন খলিলুর রহমানের বাড়িতে মুক্তারের মা রহিমা বেগম ও খালা ফরিদা বেগমকে বেঁধে রাখার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মুক্তারের বাবা মোহাব্বত আলী নালিতাবাড়ী থানায় খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে খলিলুর রহমানও মুক্তার হোসেন ও সোহানের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে মূল চুরির ঘটনা পরবর্তী সময়ে দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বিরোধে রূপ নেয়।

মুক্তার হোসেনের দাবি, তিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ায় একটি পক্ষ তাঁকে চুরির ঘটনায় ফাঁসিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে। সোহানকে দায়মুক্ত করতেই তাঁর নাম সামনে আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে খলিলুর রহমান বলেন, চুরির পর প্রথমে তিনি কাউকে সন্দেহ করেননি এবং থানায় অভিযোগও করেননি। পরে সোহানের পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে। তাঁর ভাষ্য, সোহান প্রথমে নিজেকে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা বলে পরে রাকিব ও মুক্তারের নাম উল্লেখ করেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগে চুরির কোনো অভিযোগ তাঁদের জানা নেই। একই সঙ্গে সোহানের বক্তব্যে বারবার পরিবর্তন আসায় প্রকৃত ঘটনা নিয়েও তাঁদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

মুক্তারপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় একটি পক্ষ সোহানকে প্রভাবিত করে তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়াচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে চুরির ঘটনায় প্রকৃত অপরাধী কে, নাকি বিরোধের সুযোগ নিয়ে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চুরির ঘটনায় বারবার নাম বদল, চাপ ক্ষতিপূরণের

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অটোরিকশাচালকের বাড়িতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বিরোধ থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে। চুরির ঘটনায় এক যুবকের দেওয়া বক্তব্যে বারবার নাম পরিবর্তন এবং এক স্যানিটারি মিস্ত্রিকে চুরি যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গত ৭ জুলাই উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের কয়রাকুড়ি গ্রামের অটোরিকশাচালক খলিলুর রহমানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওইদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাশের ভটপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে যান তিনি। রাতে বাড়ি ফিরে দেখতে পান, ঘরের প্লাস্টিকের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ারের তালা খোলা। ড্রয়ারে রাখা ২০ হাজার টাকা ও প্রায় আট আনা স্বর্ণালঙ্কার সেখানে নেই।

চুরির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় একই গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে সোহান (১৯) চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের সন্ধান করা হলেও সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

পরে সোহানের বক্তব্যে রাকিব নামে এক যুবকের নাম আসে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এরপর সোহান একই এলাকার স্যানিটারি মিস্ত্রি মুক্তার হোসেনের নাম উল্লেখ করেন।

এর পরই মুক্তার হোসেনকে চুরির ঘটনায় দায়ী করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। মুক্তারের অভিযোগ, স্থানীয় একটি পক্ষ চুরি যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য পরিশোধের জন্য তাঁকে চাপ দিচ্ছে। তবে চুরির সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধের মধ্যে গত ২৩ আগস্ট এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওইদিন খলিলুর রহমানের বাড়িতে মুক্তারের মা রহিমা বেগম ও খালা ফরিদা বেগমকে বেঁধে রাখার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মুক্তারের বাবা মোহাব্বত আলী নালিতাবাড়ী থানায় খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে খলিলুর রহমানও মুক্তার হোসেন ও সোহানের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে মূল চুরির ঘটনা পরবর্তী সময়ে দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বিরোধে রূপ নেয়।

মুক্তার হোসেনের দাবি, তিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ায় একটি পক্ষ তাঁকে চুরির ঘটনায় ফাঁসিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে। সোহানকে দায়মুক্ত করতেই তাঁর নাম সামনে আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে খলিলুর রহমান বলেন, চুরির পর প্রথমে তিনি কাউকে সন্দেহ করেননি এবং থানায় অভিযোগও করেননি। পরে সোহানের পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে। তাঁর ভাষ্য, সোহান প্রথমে নিজেকে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা বলে পরে রাকিব ও মুক্তারের নাম উল্লেখ করেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগে চুরির কোনো অভিযোগ তাঁদের জানা নেই। একই সঙ্গে সোহানের বক্তব্যে বারবার পরিবর্তন আসায় প্রকৃত ঘটনা নিয়েও তাঁদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

মুক্তারপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় একটি পক্ষ সোহানকে প্রভাবিত করে তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়াচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে চুরির ঘটনায় প্রকৃত অপরাধী কে, নাকি বিরোধের সুযোগ নিয়ে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।