ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 187

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, প্রতিকার ও নির্মাণের কার্যক্রমের সাথে প্রতিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগী, সহিংসতার ঘটনায় অপরাধী এবং সেবাদানকারী এই তিন পক্ষের মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান ডা. ফওজিয়া মোসলেম ।

০৭ জুলাই সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ-প্রতিকার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং করণীয় বিষয় মতবিনিময় সভায় ডা. ফওজিয়া মোসলেম একথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম আরো বলেন, এসময় অভিভাবকদের জন্য ইতিবাচক প্যারেন্টিং, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের মানিসক স্বাস্থ্যের বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। নারী নির্যাতনের বীভৎস ঘটনাগুলোর সঙ্গে কাজ করা সেবাদানকারীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির কাজ আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে, সহিংসতার সামাজিক ভিত্তি ভাঙতে হবে।

স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু । কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রোগ্রাম অফিসার (কাউন্সেলিং) সাবিকুন্নাহার। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা।
অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মেহজাবিন হক, এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়; অধ্যাপক ডা. এম এম এ সালাউদ্দিন কাউসার, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা; ড. মাহবুবা কানিজ কেয়া, অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; এনজেলা খান, মনোবিজ্ঞানী; সাদেকা বানু, সহযোগী অধ্যাপক ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; নুজহাত-ই-রহমান, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট; ডা. শারমিন আফরিন, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা; ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং এন্ড ওয়েল বিং সেন্টারের সিনিয়র কাউন্সিলর এন্ড কো-অর্ডিনেটর স্মরণ সুহৃদ এবং কাউন্সিলর মৌসুমী ফাতেমা সিরাজ প্রমুখ।

অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্যে কাউন্সিলর মৌসুমী ফাতেমা সিরাজ বলেন, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার প্রতিকারে বিশেষত: গ্রামাঞ্চলে এখনো পরিবার ও সমাজ সচেতন নয়। সহিংসতার পর সহায়তা গ্রহণে সকলকে সচেতন করতে হবে এবং সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব দিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ্ওবং কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. মেহজাবিন হক বলেন, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের উপর গুরুত্ব দেয়া দরকার। সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যক্তি মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ধর্ষক, নিপীড়ক হিসেবে জন্ম নেয় না, সামাজিক নেতিবাচক প্রক্রিয়া তাকে অপরাধী করে তোলে। বাচ্চাদের দেখভালের জায়গায় বাবা মায়ের পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও ভ’মিকা আছে। একটি শিশুর শৈশব নিরাপদ হলে তার বেড়ে ওঠা নিরাপদ হয়। মানসিক ট্রমা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতায় তিনি আরো বলেন নির্যাতনের কথা পরিবার থেকে গোপণ রাখার কথা বলা হয়, যা ভুক্তভোগীর জন্য আরো বেশি কষ্টকর হয়।

অধ্যাপক ড. মাহবুবা কানিজ কেয়া বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর মানসিক স্বাস্থ্য পরস্পর সম্পর্কিত। সহিংসতার শিকার নারীদের কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দেয়া যায় সেবিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশ^বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানির শিকার হলে পুরুষশাসিত ব্যবস্থার কারনে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়না। ভুক্তভোগী ও সেবাদাতাদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এম এ সালাউদ্দিন কাউসার বলেন, স্কুল কলেজে সহিংসতা ইস্যূতে সুনির্দিষ্ট বিষয়াবলী নিয়ে সচেতনতামূলক কাজ করতে হবে; মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা মূলককর্মসূচি নিতে হবে, বিষয়ভিত্তিক ফটো কার্ড, পডকাস্ট তৈরি ও রিলস তৈরির উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মনোবিজ্ঞানী এনজেলা খান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদানের জায়গায় কাউন্সেলিং ও ট্রমা ম্যানেজমেন্ট এর ক্ষেত্রে সেবার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে সেবা প্রদানকারীদের একটি টিম তৈরির উপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কাউন্সিলরদের প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট এর দিকে নজর দিতে হবে। একইসাথে মেন্টাল হেলথ, মেন্টাল ওয়েলবিং নিয়ে কর্মরত দের সেবার প্রদানের মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণের উপর জোর দিতে হবে।

সাদেকা বানু বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বয়:সন্ধিকালীন বিষয়গুলো নিয়ে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার জন্য প্ল্যাটফরম তৈরি করতে হবে, সিলেবাসে এসকল বিষয় যুক্ত করতে হবে। মানসিক সহায়তার বিষয় নিয়ে সেবার ক্ষেত্র ঢাকার বাইরে সম্প্রসারণ করার উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ক্লিনিক্যাল সাইকো লজিষ্ট নুজহাত-ই-রহমান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বিষয়ে ইউনিট চাল ু করা হলে খুবই ভালো হবে। তিনি এসময় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী সংগঠনগুলোকে সহায়তা বিষয়ে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশপাশি সেবা প্রদানকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে এবং তাদেরকে গ্রুপ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্মরণ সুহৃদ বলেন, কাজের শুরুর দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মানসিক সহায়তা বিষয়টি নিয়ে নানা সংকোচ দেখা যেতো সামাজিক নিন্দার ভয়ে। এখন এসব কাটিয়ে সেবাগ্রহীতার সংখ্যাা বেড়েছে। যারা সেবা নিতে আসেন তাদের মধ্যে ৭০% ছাত্রী। যারা সেবা প্রদান করছেন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, সেবাগ্রহীতার তুলনায় সেবা প্রদানকারীর সংখ্যা কম।

ডা. শারমিন আফরিন বলেন, আমাদের দেশে প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্যের যতœ নেওয়ার দিকটি এখনো তেমন গুরুত্ব পায় না। সহিংসতার ঘটনায় মানসিক যে ক্ষত তৈরি হয় তা সহজে যায় না। তিনি এসময় কয়েক ধরণের মানসিক স্বাস্থ্যগত অসুস্থতার ধরণ উল্লেখ করে বলেন এসব রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রেফারেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে মালেকা বানু বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ধারাবাহিক সহিংসতার কারণে নারী ও কন্যাদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক জীবন, কর্মক্ষমতা ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। মানসিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের সামগ্রিক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ১০:২২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, প্রতিকার ও নির্মাণের কার্যক্রমের সাথে প্রতিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগী, সহিংসতার ঘটনায় অপরাধী এবং সেবাদানকারী এই তিন পক্ষের মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান ডা. ফওজিয়া মোসলেম ।

০৭ জুলাই সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ-প্রতিকার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং করণীয় বিষয় মতবিনিময় সভায় ডা. ফওজিয়া মোসলেম একথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম আরো বলেন, এসময় অভিভাবকদের জন্য ইতিবাচক প্যারেন্টিং, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের মানিসক স্বাস্থ্যের বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। নারী নির্যাতনের বীভৎস ঘটনাগুলোর সঙ্গে কাজ করা সেবাদানকারীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির কাজ আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে, সহিংসতার সামাজিক ভিত্তি ভাঙতে হবে।

স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু । কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রোগ্রাম অফিসার (কাউন্সেলিং) সাবিকুন্নাহার। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা।
অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মেহজাবিন হক, এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়; অধ্যাপক ডা. এম এম এ সালাউদ্দিন কাউসার, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা; ড. মাহবুবা কানিজ কেয়া, অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; এনজেলা খান, মনোবিজ্ঞানী; সাদেকা বানু, সহযোগী অধ্যাপক ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; নুজহাত-ই-রহমান, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট; ডা. শারমিন আফরিন, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা; ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং এন্ড ওয়েল বিং সেন্টারের সিনিয়র কাউন্সিলর এন্ড কো-অর্ডিনেটর স্মরণ সুহৃদ এবং কাউন্সিলর মৌসুমী ফাতেমা সিরাজ প্রমুখ।

অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্যে কাউন্সিলর মৌসুমী ফাতেমা সিরাজ বলেন, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার প্রতিকারে বিশেষত: গ্রামাঞ্চলে এখনো পরিবার ও সমাজ সচেতন নয়। সহিংসতার পর সহায়তা গ্রহণে সকলকে সচেতন করতে হবে এবং সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব দিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ্ওবং কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. মেহজাবিন হক বলেন, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের উপর গুরুত্ব দেয়া দরকার। সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যক্তি মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ধর্ষক, নিপীড়ক হিসেবে জন্ম নেয় না, সামাজিক নেতিবাচক প্রক্রিয়া তাকে অপরাধী করে তোলে। বাচ্চাদের দেখভালের জায়গায় বাবা মায়ের পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও ভ’মিকা আছে। একটি শিশুর শৈশব নিরাপদ হলে তার বেড়ে ওঠা নিরাপদ হয়। মানসিক ট্রমা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতায় তিনি আরো বলেন নির্যাতনের কথা পরিবার থেকে গোপণ রাখার কথা বলা হয়, যা ভুক্তভোগীর জন্য আরো বেশি কষ্টকর হয়।

অধ্যাপক ড. মাহবুবা কানিজ কেয়া বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর মানসিক স্বাস্থ্য পরস্পর সম্পর্কিত। সহিংসতার শিকার নারীদের কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দেয়া যায় সেবিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশ^বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানির শিকার হলে পুরুষশাসিত ব্যবস্থার কারনে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়না। ভুক্তভোগী ও সেবাদাতাদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এম এ সালাউদ্দিন কাউসার বলেন, স্কুল কলেজে সহিংসতা ইস্যূতে সুনির্দিষ্ট বিষয়াবলী নিয়ে সচেতনতামূলক কাজ করতে হবে; মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা মূলককর্মসূচি নিতে হবে, বিষয়ভিত্তিক ফটো কার্ড, পডকাস্ট তৈরি ও রিলস তৈরির উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মনোবিজ্ঞানী এনজেলা খান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদানের জায়গায় কাউন্সেলিং ও ট্রমা ম্যানেজমেন্ট এর ক্ষেত্রে সেবার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে সেবা প্রদানকারীদের একটি টিম তৈরির উপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কাউন্সিলরদের প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট এর দিকে নজর দিতে হবে। একইসাথে মেন্টাল হেলথ, মেন্টাল ওয়েলবিং নিয়ে কর্মরত দের সেবার প্রদানের মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণের উপর জোর দিতে হবে।

সাদেকা বানু বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বয়:সন্ধিকালীন বিষয়গুলো নিয়ে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার জন্য প্ল্যাটফরম তৈরি করতে হবে, সিলেবাসে এসকল বিষয় যুক্ত করতে হবে। মানসিক সহায়তার বিষয় নিয়ে সেবার ক্ষেত্র ঢাকার বাইরে সম্প্রসারণ করার উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ক্লিনিক্যাল সাইকো লজিষ্ট নুজহাত-ই-রহমান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বিষয়ে ইউনিট চাল ু করা হলে খুবই ভালো হবে। তিনি এসময় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী সংগঠনগুলোকে সহায়তা বিষয়ে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশপাশি সেবা প্রদানকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে এবং তাদেরকে গ্রুপ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্মরণ সুহৃদ বলেন, কাজের শুরুর দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মানসিক সহায়তা বিষয়টি নিয়ে নানা সংকোচ দেখা যেতো সামাজিক নিন্দার ভয়ে। এখন এসব কাটিয়ে সেবাগ্রহীতার সংখ্যাা বেড়েছে। যারা সেবা নিতে আসেন তাদের মধ্যে ৭০% ছাত্রী। যারা সেবা প্রদান করছেন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, সেবাগ্রহীতার তুলনায় সেবা প্রদানকারীর সংখ্যা কম।

ডা. শারমিন আফরিন বলেন, আমাদের দেশে প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্যের যতœ নেওয়ার দিকটি এখনো তেমন গুরুত্ব পায় না। সহিংসতার ঘটনায় মানসিক যে ক্ষত তৈরি হয় তা সহজে যায় না। তিনি এসময় কয়েক ধরণের মানসিক স্বাস্থ্যগত অসুস্থতার ধরণ উল্লেখ করে বলেন এসব রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রেফারেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে মালেকা বানু বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ধারাবাহিক সহিংসতার কারণে নারী ও কন্যাদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক জীবন, কর্মক্ষমতা ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। মানসিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের সামগ্রিক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।