ধর্ষণ ঘটনায় দ্রুত বিচার ও সুরক্ষা দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
- / 547
দেশব্যাপী সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট। রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।
বিবৃতিতে নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বাবার সামনে থেকে ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সর্ষে ক্ষেতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচার দাবি করায় ছয়জন তরুণ তাকে অপহরণ করে হত্যা করে।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক বাসায় নিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী ইসলামনগর এলাকায় তার বাসায় নিয়ে ওই ছাত্রীকে মারধর, গরম পানি ঢেলে শারীরিকভাবে আঘাত এবং ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। চিকিৎসার জন্য প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র, পরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকার ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হলেও ভর্তি না করিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতেও দাদি ও নাতনির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে জোট। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে এক বাড়ি থেকে ৬৫ বছর বয়সী দাদির মরদেহ এবং পাশের সর্ষে ক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী নাতনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় দাদিকে হত্যা করা হয় এবং পরে কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)- এর চেতনাবিরোধী।
জোটের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে-
- সব ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে;
- দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে;
- ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে;
- ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারসহ সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে;
- যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিবৃতির শেষাংশে জোট আশা প্রকাশ করে, নবনির্বাচিত সরকার সংবিধান ও বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর ও কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং দেশে আইনের শাসন ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

































